• 0 Items - 0.00
    • No products in the cart.
Sale

240.00

বাবরের আত্মকথা || BABURER ATMAKOTHA

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ স্ট্যানলি লেন-পুল যাঁকে ‘প্রাচ্যের জুলিয়াস সিজার’ বলে অভিহিত করেছেন, মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সেই জহিরুদ্দিন মুহম্মদ বাবর ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন তাঁর ব্যতিক্রমী আত্মজীবনী বাবরনামা গ্রন্থের জন্য।

বাবরনামা-র উৎকর্ষ বাবরের অকপটতায়। নিজের ব্যর্থতা, ভুল সিদ্ধান্ত, চারিত্রিক দুর্বলতা- কিছুই তিনি গোপন করেননি। সেইসঙ্গে রয়েছে মানবচরিত্র বিশ্লেষণ, শাসনব্যবস্থা ও সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর ভনিতাহীন মন্তব্য। ভৌগোলিক পর্যবেক্ষণ এবং প্রকৃতি ও প্রাণীজগতের সূক্ষ্ম বর্ণনা প্রদানেও তিনি অনবদ্য।
এই সেই বিরল গ্রন্থ যা একাধারে সমসময়ের বিশ্বস্ত দলিল এবং যুগপৎ এক সম্রাট ও এক মানুষের কালোত্তীর্ণ আত্মকথা।

Share

Meet The Author

"নিপুণ ইতিহাসকার তথা সুদক্ষ অনুবাদক শচীন্দ্রলাল রায়ের বলিষ্ঠ লেখনীতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন বাবর- তাঁরই আত্মকথা বাবরনামা-র প্রাঞ্জল অনুবাদে। বাবরের আত্মকথা অনুবাদকর্ম হলেও আসলে তা মৌলিক রচনার মতোই তীব্র, স্বাদু ও কৌতূহলোদ্দীপক- মূলের প্রতি বিশ্বস্ত থেকেও যা স্বাতন্ত্র্যের দাবিদার। বিশাল, বৈচিত্র্যময়, রোমাঞ্চকর বাবরের মহামূল্য জীবনকথা অনুবাদকের কুশলী নির্মোহতায় দীপ্ত হয়ে উঠেছে এই গ্রন্থে। অনুবাদক শ্রীরায় নিবিষ্ট পাঠকের মনোযোগে, গবেষকের জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে প্রথমে মন্থন করেছেন ফারসি এবং পাশ্চাত্যের নানা ভাষায় অনূদিত বাবরের আত্মকথা, তারপর আত্মনিবেশ করেছেন আপন ভাষান্তরকরণে। শচীন্দ্রলাল রায়ের লেখা অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে সবিশেষ উল্লেখযোগ্য-জহর ও অমৃত, নেশার ঘোরে, দাবী-দাওয়া, গেঁয়ো, রক্তের সম্বন্ধ, কমলবন। বাবর-কথা বিধৃত শচীন্দ্রলালের অপর অসামান্য আখ্যান বাবরনামায় ভারতকথা নিবিড় বিশ্লেষণে প্রদীপ্ত, সংবেদী আলোচনায় উজ্জ্বল।"

পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কম নৃপতিই আত্মজীবনী রচনা করেছেন। অতিশয়োক্তি ও রাজকীয় গৌরবগাথায় পরিপূর্ণ সেইসব আত্মকথার অধিকাংশেরই সাহিত্য ও ইতিহাসমূল্য নগণ্য যেহেতু সেগুলি ততটা স্বীকারোক্তিমূলক নয়, প্রামাণ্য ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে হলে যতটা অকপট হওয়া কাঙ্ক্ষিত।

এদিক থেকে দেখলে, মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরউদ্দিন মুহম্মদ বাবর (১৪৮৩-১৫৩০) বিরচিত বাবরনামা (আক্ষরিক অর্থ ‘বাবরের লেখা’ বা ‘বাবরের বই’) এক যুগান্তকারী গ্রন্থ। বাবরনামা কেবলই একের পর এক যুদ্ধজয়ের মাধ্যমে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার কাহিনি শোনায় না, বরং ষোড়শ শতকের দ্বিতীয় দশকে মধ্য এশিয়ার ফরঘনা থেকে বিতাড়িত এক শাসক কী চোখে দেখছেন ভারতীয় উপমহাদেশকে, কীভাবে পরিচিত হচ্ছেন এক নতুন সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে, তাও জানায় সবিস্তারে।

তৎকালীন শাসকশ্রেণির সাহিত্যিক ভাষা ফারসির পরিবর্তে বাবর তাঁর মাতৃভাষা (উইগুর ও উজবেক ভাষার সংমিশ্রণে তৈরি) চাঘতাই তুর্কিতে লেখেন এই আত্মজীবনীটি। পরবর্তীকালে, তাঁর পৌত্র সম্রাট আকবর গ্রন্থটিকে ফারসি ভাষায় (অনুবাদক আব্দুল রহিম) অনুবাদ করান। ফারসি থেকেই কালক্রমে তা বিভিন্ন ইউরোপীয় ভাষায় অনূদিত হতে থাকে। বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে বাবর-কৃত মূল চাঘতাই তুর্কি থেকে যে নির্ভরযোগ্য ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়, তা-ই বাবরনামা-কে আধুনিক ইতিহাস গবেষণার মূল স্রোতে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

বাবরনামা-র উৎকর্ষ বাবরের অকপটতায়। নিজের ব্যর্থতা, ভুল সিদ্ধান্ত, চারিত্রিক দুর্বলতা- কিছুই তিনি গোপন করেননি। সেইসঙ্গে রয়েছে যে মানুষদের সংস্পর্শে তিনি এসেছেন, তাঁদের নিখুঁত চরিত্র বিশ্লেষণ। শাসনব্যবস্থা ও সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তাঁর ভনিতাহীন মন্তব্য সবসময়ই বাস্তবানুগ। ভৌগোলিক পর্যবেক্ষণ এবং প্রকৃতির সূক্ষ্ম বর্ণনা প্রদানে ও তিনি অনবদ্য।

তৈমুরের বংশধরদের মধ্যে বাবর ছিলেন একজন প্রকৃত শিক্ষিত, অভিজাত শাসক। তাঁর সেই মার্জিত মননের প্রতিফলন আমরা বারবার খুঁজে পাই বাবরনামা-য়। ইতিহাসবিদ স্ট্যানলি লেন-পুল, যিনি বাবরকে ‘প্রাচোর জুলিয়াস সিজার’ বলে অভিহিত করেছিলেন, যথার্থই মন্তব্য করেছেন, ‘বাবরনামা হল এক সুশিক্ষিত, সংস্কারমুক্ত, সংবেদনশীল মানসিকতার মানুষের প্রত্যক্ষ বিবরণ, যার ঐতিহাসিক বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নাতীত।’

Weight 370 g
Dimensions 22 × 15 × 2 cm

Reviews

There are no reviews yet.

Only logged in customers who have purchased this product may leave a review.