হুমায়ূন নামের অর্থ ভাগ্যবান। কিন্তু ইতিহাসে এমন দুর্ভাগ্যপীড়িত সম্রাট বিরল। সমকালীন মানদণ্ডের নিরিখে হুমায়ূন যথেষ্ট শিক্ষিত ছিলেন। তুর্কি, আরবি, ফারসি ভাষা ছাড়াও গণিত, দর্শন, জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যোতিষ শাস্ত্রে তাঁর সবিশেষ অধিকার ছিল। পিতা বাবরের মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে হুমায়ূন সিংহাসনে আসীন হন। কিন্তু একের পর এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষে তিনি জড়িয়ে পড়তে থাকেন।
যোদ্ধা ও শাসক হিসেবে তিনি তাঁর বিখ্যাত পিতা বা কিংবদন্তি পুত্র কারও মতোই কৃতকার্য হতে পারেননি। অথচ ব্যক্তি হিসেবে তিনি ছিলেন একজন সৎ, উদার, বন্ধুবৎসল ও সংস্কৃতিমনা মানুষ। ১৫৪০-এ বিলগ্রামের যুদ্ধে শের শাহের কাছে পরাজিত হওয়ার পর লাহোর, কাবুল, সিন্ধু, পাঞ্জাব, পারস্য-নানা জায়গায় কাটে তাঁর পলাতক জীবন।
১৫৪৫-এ শের শাহের মৃত্যু হয়। উপযুক্ত উত্তরাধিকারীর অভাবে সাম্রাজ্যে ভাঙন ধরে। ১৫৫৫ সালে শিরহিন্দের যুদ্ধে আফগান শাসক সিকন্দর শুরকে পরাজিত করে হুমায়ূন সুদীর্ঘ পনেরো বছর পর দিল্লি পুনর্দখল করেন। কিন্তু রাজ্যশাসন তাঁর ভাগ্যে ছিল না। ১৫৫৬ সালে দিল্লি দুর্গের পাঠাগার থেকে পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
কুড়িটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত, প্রেমময় দাশগুপ্ত বিরচিত এই জীবনীগ্রন্থটি স্বাদু বাংলায় হুমায়ূনের জীবন ও সময়ের এক বিশ্বস্ত ধারাভাষ্য। সমকালীন ও আধুনিক ঐতিহাসিকদের সঙ্গে বহু ক্ষেত্রেই লেখক হুমায়ূনের জীবনের বিভিন্ন কার্যকলাপ সম্পর্কে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন।
ধন-সাম্রাজ্যবাদ কীভাবে হুমায়ূনের মতো এক মহৎ শাসককে শেষপর্যন্ত ব্যর্থ করে দিয়েছিল, তা এই গ্রন্থ থেকে জানা যাবে। এই গ্রন্থ পাঠ করলে পাঠক শুধু ষোড়শ শতাব্দীর ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের বিড়ম্বিত সূচনালগ্নেই পরিভ্রমণ করবেন না, এক ভাগ্যপ্রবঞ্চিত সম্রাটের জীবনের নানান উত্থান-পতনেরও সাক্ষী হবেন।
পঞ্চ রহস্য || PANCHARAHASYA - NABAKUMAR BASU
আবৃত্তি সৃষ্টির মুহূর্ত / ABRITTI SRISTIR MUHURTA
Sahitya Chayan-1 / সাহিত্য চয়ন - 1
Amader Bigyan O Paribesh-1 / আমাদের বিজ্ঞান ও পরিবেশ-১ 
Reviews
There are no reviews yet.