কিছুকাল যাবৎ জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির পরম শ্রদ্ধেয় জ্যোতিরিন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর একান্ত স্নেহের ভাই রবীন্দ্রনাথ ও স্ত্রী কাদম্বরী দেবীর সম্পর্ক এবং কবির সঙ্গে তাঁর নতুন বউঠানের পবিত্র সম্পর্ক নিয়ে যেসকল রুচিবিগর্হিত আলোচনা হচ্ছে, তা সর্বতোভাবেই অনভিপ্রেত। শুধু তাই নয়, কোনো কোনো লেখক জ্যোতিরিন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর মেজো বউঠাকরুন জ্ঞানদানন্দিনী দেবী এবং খ্যাতনামা অভিনেত্রী নটী বিনোদিনীর অবৈধ প্রণয় সম্পর্ক নিয়ে যেসব কল্পিত বিবরণ দিয়েছেন, তা শুধু রুচিহীন নয়, রীতিমতো অশ্লীলও।
ব্রাহ্মসমাজের স্তম্ভস্বরূপ মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ তাঁর সন্তানদের মধ্যে যে পবিত্র ঐশ্বরিক চেতনার সঞ্চার করেছিলেন, তা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রনাথের জীবনকে সত্য ও সুন্দরের পথে নিয়ে গিয়েছিল। তাই তাঁদের মতো মহামানব এবং কাদম্বরী দেবীর মতো এক অসাধারণ নারীর চরিত্রহননের চেষ্টা অমার্জনীয়।
বর্তমান গ্রন্থটিতে লেখক বিভিন্ন তথ্য উদ্ধার করে সুস্পষ্টভাবে দেখিয়েছেন যে, জ্যোতিরিন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর একান্ত স্নেহের ভাই রবির সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। আবার ঠিক তেমনই কাদম্বরী দেবীর সঙ্গে ছিল তাঁর গভীর স্নেহ, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক।
দুজনেই ছিলেন পরস্পরের শিল্প ও সাহিত্য-সাধনার পরিপূরক। অন্যদিকে কাদম্বরী দেবী ছিলেন কবির ছেলেবেলার খেলার সাথি। তিনিই ক্রমশ হয়ে উঠেছিলেন কবির কাব্যসৃষ্টির প্রেরণাদাত্রী, জীবনের ধ্রুবতারা। তাই যেমন জীবিতকালে, তেমনই মৃত্যুর পরও তিনি ছিলেন ‘কবির অন্তরে কবি’ হয়ে।
কবির জীবনে সুখে ও দুঃখে তাঁর দাদা ও বউঠান কীভাবে আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে যে পরস্পরের প্রীতি ও ভালোবাসার এক অভিনব সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল- বর্তমান গ্রন্থটিতে লেখক তা একান্ত নিষ্ঠার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় / ACHARYA PRAFULLA CHANDRA RAY
ঐতিহ্যের দর্পণে চর্যাগীতি / AITIRJHYER DARPANE CHARJAGITI 
Reviews
There are no reviews yet.