ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের দুই অগ্রগণ্য নায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও জওহরলাল নেহরু বিশ শতকের বিশ ও তিরিশের দশকে ছিলেন জ্বলন্ত আদর্শবাদ, দেশপ্রেম ও তারুণ্যের অত্যুজ্জ্বল প্রতীক। মহাত্মা গান্ধির পর তাঁরাই হয়ে উঠেছিলেন দেশের মানুষের নয়নের মণি। রবীন্দ্রনাথও তাঁদের চিহ্নিত করেছিলেন ভবিষ্যতে আধুনিক ভারতের রূপকার হিসেবে। বয়সের কিছু পার্থক্য সত্ত্বেও মোটামুটি একই সময়ে তাঁরা আবির্ভূত হয়েছিলেন রাজনৈতিক মঞ্চে।
শিক্ষাদীক্ষা ও পারিবারিক পরিবেশে যেমন সাদৃশ্য ছিল, তেমনই ছিল অনেকক্ষেত্রে স্বপ্ন ও ভাবনার। সংগ্রামও শুরু করেছিলেন পাশাপাশি। কিন্তু কেন শেষপর্যন্ত ভিন্ন হয়ে গেল পথ? সেই প্রশ্নেরই উত্তরের সন্ধান করেছে এই গ্রন্থ। সেই সন্ধানের সূত্র ধরেই এসেছে দুই নেতার সম্পর্ক জটিলতর করার ক্ষেত্রে গান্ধিজির ভূমিকা নিয়ে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের কথা।
কেন সুভাষ গান্ধিজিকে বলেছেন ‘এক পুরানো আসবাব’? আবার জওহর সম্পর্কে বলেছেন, ‘মহাত্মার প্রতি তাঁর অন্ধ আনুগত্যের ব্যাপারটা আমি বুঝতে পারি না।… ও বুদ্ধি দিয়ে পুজো করে মস্কোর, আর হৃদয় দিয়ে ভক্তি করে মহাত্মাকে।’ এই কাহিনি সুতরাং শুধু দুই বিশাল ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও রাজনৈতিক জীবনের বিশ্লেষণই নয়, সেইসঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের ইতিহাসও।
একইসঙ্গে এই গ্রন্থ এই প্রশ্নও তুলেছে, স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজির নির্ণায়ক ভূমিকা সত্ত্বেও কেন তিনি স্বাধীন ভারতে প্রাপ্য মর্যাদা থেকে বঞ্চিত থেকেছেন, যদিও তাঁর বহু উত্তরাধিকার আজও বহন করে চলেছি আমরা? এক্ষেত্রে নেহরুর ভূমিকাই বা কী ছিল?
আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় / ACHARYA PRAFULLA CHANDRA RAY 
Reviews
There are no reviews yet.