শিল্পের অন্তিম অভীষ্ট যদি সংযোগ হয়, অনিমেষ কুমার চৌধুরীর কবিতা সেখানে একলহমায় ছুঁয়ে নেয় পাঠকের হৃদয়।
একুশ শতকের এই দ্বিতীয় দশকে এসে, বাংলা কবিতা হিসেবে যা আমরা সচরাচর পড়ে থাকি সাময়িক পত্র-পত্রিকা কিংবা লিটল ম্যাগাজিনে, তার সঙ্গে অনিমেষের কবিতার মেজাজের দূরত্ব বিস্তর। অনিমেষ কোনো বিমূর্ত কাব্যভাষার পূজারি নন।
সাংকেতিকতার প্রাবল্যে প্রায় দুর্বোধ্য কোনো কবিতা রচনায় অনিমেষ বিশ্বাসী নন। তিনি বিশ্বাস রাখেন মানুষের ওপর, চর্চা করেন মানবিক যাবতীয় গুণাবলির। ফলত, তাঁর কবিতায় বারবার উঠে আসে আমাদের এই সময়, সমাজ, তার ক্ষয়িষু মূল্যবোধ এবং সেই সংকট থেকে মুক্তি তথা উত্তরণের উপায়।
বাঙালির হারিয়ে ফেলা অপাপবিদ্ধ শৈশব-কৈশোরও উঁকি মারে তাঁর কবিতার পংক্তিতে-‘হারিয়ে গেল শীতের বিকেল। পৌষের পিঠেপুলি,/হারিয়ে যাচ্ছে- অতুলপ্রসাদ, রজনীকান্ত, ঠাকুমার ঝুলি।’
প্রেমের উচ্চারণেও কবি অকপট-‘ঝরে পড়া রক্তের অক্ষরে’ তিনি কবিতা লিখতে চান ‘তোমাকেই শুধু তোমাকেই।।’ সমাজে নারীসুরক্ষার অভাব তাঁকে ব্যথিত করে। ‘বিধ্বংসী সভ্যতার উন্নাসিক অহংকার’ তাঁকে ত্রস্ত করে। তবু তিনি ‘আশার স্বপন’ দেখতে চান- ‘যুবসমাজের জাগ্রত তেজে। সরে যাবে অনাচার / হৃদয় বাগিচায় নীতির ফুল/সমাজে ন্যায় বিচার।’
কিন্তু এই যুবসমাজকে কে পথ দেখাবে? ‘বিবেক-অডিট’ করে তা জেনে নিতে চান কবি। স্বামী বিবেকানন্দকে আহবান করেন অনিমেষ আমাদের জীবন-অ্যাকাউন্ট অডিট করার জন্য। তাঁর পবিত্র স্পর্শেই একমাত্র ঘুচে যেতে পারে সমসময়ের যাবতীয় গ্লানি ও মালিন্য।
সফটওয়্যার কেরানির নকশা / Saftware Keranir Naksa
সমকালের অনুগল্প ১০০ / SAMAKALER ANUGALPO 100
হাসির ফুলকি / HASIRA PHULAKI 
Reviews
There are no reviews yet.