কখনও মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের চুরি যাওয়া আংটি খুঁজে দিয়ে, কখনও প্রবাদপ্রতিম পঙ্কজ রায়ের খোওয়া যাওয়া ব্যাট আন্তর্জাতিক চোরাকারবারিদের কবল থেকে উদ্ধার করে এনে, আবার কখনও-বা ফুটবলের ঈশ্বর দিয়েগো মারাদোনাকে ডোপিং কেলেঙ্কারিতে নির্দোষ প্রমাণ করে খুব অল্প সময়ে পাঠকপ্রিয়তার তুঙ্গ স্পর্শ করেছেন যে বাঙালি রহস্যভেদী, তিনিই গোয়েন্দা কালকেতু নন্দী।
আদতে সাংবাদিক কালকেতুর চেনাজানার পরিধিটা যেমন বড়ো, তেমনই তীক্ষ্ম ও অব্যর্থ তাঁর পর্যবেক্ষণ ও মানুষ চেনার ক্ষমতা। কাকতালীয়ভাবে একদিন কালকেতু এসে পড়ে দমদম সেন্ট্রাল জেলে। দেখা হয় এক তরুণ নক-আউট পাঞ্চারের সঙ্গে। চোদ্দো-পনেরো একটি কিশোরী মেয়েকে অপহরণ ও খুনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন সাজা খাটছে সে। কিন্তু ছেলেটিকে দেখে খুনি বলে মনে হয় না কালকেতুর। বরং খুব দ্রুতই তিনি আবিষ্কার করেন – এই সেই অপ্রতিরোধ্য স্ট্যালোন, কয়েক বছর আগে বক্সিং-এ জুনিয়র ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল যে, যাকে নিয়ে একসময় আন্তর্জাতিক পদকের স্বপ্ন দেখেছিল বাংলার বক্সিং মহল।
কালকেতুর উদ্যোগে রিওপেন হয় স্ট্যালোন-এর কেস ডায়রি, আইনজীবী ও সাংবাদিক বন্ধুদের মাধ্যমে তিনি জোগাড় করতে শুরু করেন একের পর এক সাক্ষ্যপ্রমাণ। এর পাশাপাশি, উপরমহলের সহযোগিতায় রাজ্যের সংশোধনাগারগুলির মধ্যে শুরু হয় বক্সিং প্রতিযোগিতা। স্ট্যালোনের হাতে ফের উঠে আসে গ্লাভস।
কিন্তু বাবা-মায়ের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর তার যে মন ভেঙে গেছে। সে কি পারবে মোগোল, কালাচাঁদ, জেলের ভেতরের দুষ্টচক্র, বাইরের জমিমাফিয়া এবং বাংলার ক্রীড়াজগতের নানান লবি ও রাজনীতির মোকাবিলা করে জেল থেকে বেরিয়ে এসে আর কোনওদিন রুসাতির হাত ধরতে?
জানতে গেলে পড়তে হবে রূপক সাহার অদম্য এই স্পোর্টস থ্রিলার।
রায় বাড়ির মেয়েরা || RAY BARIR MEYERA
উদ্ধৃতি-অভিধান / UDHRITI ABHIDHAN 
Reviews
There are no reviews yet.