পদ্মানদীর মাঝি কেবল একটি নদী, কিছু জেলে-জীবন কিংবা দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের দিনযাপনের উপাখ্যান নয়-এ এক প্রবহমাণ নিয়তির মহাকাব্য, যেখানে নদী একই সঙ্গে জীবনদাত্রী, জীবিকাদাত্রী এবং মৃত্যুর অদৃশ্য দূত।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মা কোনো নিস্তরঙ্গ পটভূমি নয়; সে যেন এক জীবন্ত, রহস্যময় ও অনির্দেশ্য সত্তা- কখনও মাতৃমমতায় আশ্রয় দেয়, কখনও নির্মমতায় কেড়ে নেয় মানুষের স্বপ্ন, সংসার ও নিরাপত্তা।
কুবের মাঝির জীবন, কপিলার নিষিদ্ধ আকর্ষণ, মালার নীরব বেদনা এবং হোসেন মিয়ার মায়াবী ময়নাদ্বীপ- সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ধীরে ধীরে।
উন্মোচন করে মানুষের অন্তর্লীন ক্ষুধা, আকাঙ্ক্ষা, প্রেম, অসহায়তা ও মুক্তির স্বপ্নের এক জটিল মনস্তত্ত্ব। এখানে নদীর স্রোেত যেমন থেমে থাকে না, তেমনি থেমে থাকে না মানুষের নিয়তি; এক অদৃশ্য টানে মানুষ বারবার এগিয়ে যায় অজানার দিকে। এই কারণেই পদ্মানদীর মাঝি শুধু একটি সময়ের দলিল নয়- এ মানুষের চিরন্তন অস্তিত্বসংকটের এক গভীর শিল্পরূপ। পদ্মার জলরাশির মতোই এর অর্থ বহমান; প্রতিটি পাঠে তার গহিনে আবিষ্কৃত হয় নতুন কোনো অন্ধকার, নতুন কোনো আলো, নতুন কোনো অনুচ্চারিত সত্য। বাংলা কথাসাহিত্যের এই অনন্য সৃষ্টি তাই কেবল পাঠযোগ্য নয়- এমন এক অভিজ্ঞতা, যার স্রোত পাঠ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘকাল অন্তরে বয়ে চলে।

Reviews
There are no reviews yet.