দশ অধ্যায়ে বিন্যস্ত এই জীবনীগ্রন্থ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এক নির্মোহ জীবনভাষ্য। বাংলা জীবনী সাহিত্যের ইতিহাসে আর কোনও শরৎ-বৃত্তান্ত এমন নিরপেক্ষতায় কথাশিল্পীর জীবনের প্রতিটি পর্বকে পুনরায় জীবন্ত করে তুলে ধরতে কৃতকার্য হয়নি।
পাশাপাশি এখানে তথ্যঋদ্ধ বিশ্বস্ততার জীবনীকারের অবলম্বন তাঁর অলোকসামান্য মর্মভেদী অন্তর্দৃষ্টি। তাতেই আলোকিত হয়ে উঠেছে শরৎচন্দ্রের শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও পরিণত জীবনের দিনগুলি। শুধু তা-ই নয়, সেই মহাজীবনের উন্মেষ ও প্রকাশকে ঋষি দাস ধরতে চেয়েছেন এক ক্ষয়িষ্ণু সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার জটিল আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে। তাই এই গ্রন্থ পাঠ করলে ব্যক্তি তথা লেখক শরৎচন্দ্রকে জানার পাশাপাশি আমরা যেন মানসচক্ষে দেখতে পাই সেই সময়ের অখণ্ড বাংলাকেও। প্রসঙ্গত, এসেছে প্রবাসী হিসেবে শরৎচন্দ্রের বিহার ও ব্রহ্মদেশে অতিবাহিত জীবন, তাঁর বৈঠকি গল্প, আত্মীয়-বন্ধুদের সঙ্গে তাঁর পত্রালাপ, নানান পত্রপত্রিকা ও প্রকাশনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথাও।
আমরা ঋষি দাসের লেখনী অনুসরণ করে মানুষ শরৎচন্দ্রকে ভালোবেসে ফেলি। দুঃসহ দারিদ্র্য, প্রবল অর্থাভাব, একের পর এক কঠিন ব্যাধি-কোনও প্রতিবন্ধকতাই জীবনপিয়াসি সংগ্রামী মানুষটিকে দমাতে পারেনি। তাঁর দুর্জয় সাহস, অননুকরণীয় বীরত্ব ও ব্যতিক্রমী মর্যাদাবোধ মানুষ হিসেবেও তাঁকে মহৎ করে তুলেছিল। যুগপৎ ব্যক্তি ও সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বহিঃজীবন ও অন্তর্জীবনকে এমন অনুপুঙ্খ বিশ্বস্ততায় বৃহত্তর বঙ্গের প্রেক্ষাপটে ভাস্বর করে তোলার জন্য গ্রন্থকার আমাদের ধন্যবাদার্হ হয়ে থাকবেন।
কথাশিল্পীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে-দৃষ্টিপটের অন্তরালে চলে যাওয়া- জীবনীগ্রন্থটির পুনরুদ্ধার ও পুনঃপ্রকাশ বাংলা প্রকাশনা জগতের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যবাহী হয়ে থাকবে।
BHARATER ITIHAS (PRACHIN O ADI MADHYA YUG) / ভারতের ইতিহাস (প্রাচীন ও আদি মধ্যযুগ) B.A. (AS PER NEP 2020)
SIKSHASRAYEE PRAJUKTI BIGYAN (B.A.) Hons. 
Reviews
There are no reviews yet.