শাস্ত্রজ্ঞানী পাঠক মাত্রই এ বিষয়ে সহমত হবেন যে, মহাভারত-ই হল সেই মহাগ্রন্থ, যা সকল গ্রন্থের সারাৎসার। স্বয়ং বেদব্যাস জানিয়েছেন, অষ্টাদশ পুরাণ, সকল ধর্মশাস্ত্র, ব্যাকরণ, জ্যোতিষ, ছন্দশাস্ত্র, শিক্ষা, কল্প এবং নিরুক্ত-সহ চার বেদ একত্র করলে যা দাঁড়ায়, একা মহাভারত-ই সেই সবের সমন্বয়। তাই এই একুশ শতকের দ্বিতীয় দশকে এসেও মহাভারত পাঠ ও পুনর্পাঠ আমাদের সামনে বিরল দার্শনিক প্রজ্ঞা ও অন্তর্দৃষ্টির নব নব দিগন্ত উন্মোচিত করে। বর্তমান গ্রন্থের উপজীব্য মহাভারত-এর দ্বাদশ অধ্যায়ে বর্ণিত শান্তিপর্ব।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ তখন সদ্য সমাপ্ত হয়েছে। সকলে চাইছেন যুধিষ্ঠির সিংহাসনারূঢ় হয়ে প্রজাকল্যাণে নিয়োজিত হোন- কুরু সাম্রাজ্যে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ন্যায় পুনঃস্থাপিত করুন। কিন্তু যুধিষ্ঠির তখনও প্রিয়জন বিয়োগবেদনায় কাতর। এই ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ তাঁকে বিহ্বল করে দিয়েছে। তখনই কৃষ্ণ তাঁর সহায় হলেন। শ্রীকৃষ্ণ সমভিব্যাহারে যুধিষ্ঠির গমন করলেন যুদ্ধক্ষেত্রের সেই কোণে, পিতামহ ভীষ্ম যেখানে শরশয্যায় শায়িত। কৃষ্ণ প্রথমে ভীষ্মের শরাঘাত-সঞ্জাত ক্লেশ নিবারণ করলেন, তারপর গঙ্গাপুত্রকে করজোড়ে অনুরোধ জানালেন যুধিষ্ঠিরকে রাজ্যচালনা সম্পর্কিত কিছু উপদেশ প্রদান করার জন্য। ভীষ্ম প্রাথমিকভাবে অসম্মত হলেও যশোদানন্দনের পুনঃপুন অনুরোধে রাজধর্মের পাঠদানে সম্মত হলেন। প্রসঙ্গত স্মর্তব্য, এই উপদেশ প্রদান বেশ কয়েকদিন ধরে চলেছিল। যুধিষ্ঠির একের পর এক প্রশ্ন করে চলেছেন আর ভীষ্ম তার উত্তর দিয়ে চলেছেন। ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ সম্পর্কিত সেই উপদেশামৃতই যুধিষ্ঠির কর্তৃক পালিত রাজধর্মের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠিরের উদ্দেশে শরশয্যায় শায়িত ভীষ্ম প্রদত্ত সেই উপদেশাবলিরই অনুপুঙ্খ আলোচনা এই গ্রন্থ।
একুশ শতকে এসেও রাজধর্মের সেই শাশ্বত পাঠ আধুনিক রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বীয় প্রাসঙ্গিকতা অক্ষুণ্ণ রেখেছে।
ডিঙিনৌকো – তৃতীয় বর্ষ / DINGINOUKO – 3RD YEAR
বন্দে মাতরম্ প্রেরণা ও বিতর্ক / BANDEMATARAM PRERONA O BITARKA
প্রসঙ্গ যখন গণিত ও গণিতজ্ঞ / PRASANGA JAKHAN GANIT O GANITAGYA
The Festivals of India 

Reviews
There are no reviews yet.