অর্ক সাংবাদিক। সাঁঝেলি পশুপ্রেমী। দুজনের হঠাৎ পরিচয়। ধীরে ধীরে গাঢ় হতে থাকা বন্ধুত্ব। সেই সূত্রে আলিপুর চিড়িয়াখানাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতে থাকে এই কাহিনি। উন্মোচিত হতে থাকে একের পর এক নগ্ন, অস্বস্তিকর সত্য।
না, শুধুই পশুদের বন্দিজীবন, পশুশালা স্থানান্তকরণ নিয়ে বিতর্ক কিংবা পশুপ্রেমীদের আন্দোলন নয়, প্রচলিত ছকের বাইরে গিয়ে রূপক সাহা তাঁর এই উপন্যাসে ধরতে চেয়েছেন নগরায়নের নির্মম বাস্তব, তজ্জনিত পরিবেশ দূষণ এবং মানুষের সীমাহীন স্বার্থপরতাকেও।
সাঁঝেলি ধনী পরিবারের মেয়ে হতে পারে কিন্তু সে প্রকৃত অর্থেই শিক্ষিতা তথা সংবেদনশীল। সে বিশ্বাস করে পৃথিবীটা শুধু মানুষের নয়, পশুদেরও। বরং সভ্যতার ভেকধারী মানুষই আবহমানকাল ধরে পশুদের প্রতি অন্যায় করে এসেছে।
সাঁঝেলির সান্নিধ্যে ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে অর্কর দৃষ্টিভঙ্গিও। একসময় অর্ক বুঝতে পারে-বনভূমি কেড়ে নেওয়া থেকে শুরু করে শ্রম, খাদ্য, পোশাক ও বিনোদনের জন্য পশুদের ব্যবহার-সবকিছুর বিরুদ্ধে কেন সাঁঝেলি রুখে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে পাঠক পরিচিতি হন চোরাশিকারি ইলিয়াসের অন্ধকার জগতের সঙ্গেও যেখানে অসহায় প্রাণীদের নিষ্ঠুর মৃত্যু ও অসহনীয় যন্ত্রণা ব্যাবসার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এই উপন্যাস পড়লে আমরা জানব যে, প্রাণীদের মধ্যেও মানবসুলভ রাগ, অভিমান, আনন্দানুভূতি আছে।
প্রেম, প্রতিবাদ, ষড়যন্ত্র এবং মানবিক বোধের সম্মিলনে রূপক সাহার চোরাপথে চিড়িয়াখানা শুধু একটি উপন্যাস নয়, পশুজগতের সঙ্গে মানবজগতের সম্পর্ক নিয়েও তা এক শানিত শ্লেষ ও তীক্ষ্ণ আত্মসমালোচনা।
কাচে ঢাকা হিরে || KACHE DHAKA HIRE || RUPAK SAHA 
Reviews
There are no reviews yet.