সতীনাথ ভাদুড়ীর জাগরী যেন ইতিহাসের বুকের মধ্যে লুকিয়ে থাকা এক অদৃশ্য দরজা-যে দরজা খুললেই দেখা যায় মানুষের অন্তর্গত আর-এক পৃথিবী।
১৯৪২-এর আগস্ট আন্দোলনের উত্তাল পটভূমিতে, মৃত্যুর প্রতীক্ষায় থাকা এক নিঃসঙ্গ রাতকে কেন্দ্র করে চারটি চেতনার আত্মকথনে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় রক্তের টান, আদর্শের দায়, বিশ্বাসের ভাঙন এবং বিবেকের নিঃশব্দ বিচার। এখানে স্বাধীনতার ইতিহাসের পাশাপাশি লেখা হয়েছে মানুষের মনের এক গোপন ইতিহাস- যেখানে দেশপ্রেমের সঙ্গে ব্যক্তিসত্তা, কর্তব্যের সঙ্গে ভালোবাসা এবং আদর্শের সঙ্গে আত্মপরিচয়ের সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে।
জাগরী তাই কেবল একটি সময়ের রাজনৈতিক উপন্যাস নয়; এটি জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে মানুষ নিজেকেই যে প্রশ্ন করে, তারই এক গভীর প্রতিধ্বনি। আশ্চর্য এই যে, রাতটি শেষ হয়ে যায়, কিন্তু প্রশ্নগুলি শেষ হয় না; বরং প্রতিটি পাঠে তারা নতুন মুখ নিয়ে ফিরে আসে। সেই কারণেই জাগরী পাঠ করা মানে শুধু একটি উপন্যাস পড়া নয়-নিজের অন্ধকারের দিকে একবার নীরবে তাকিয়ে দেখা।

Reviews
There are no reviews yet.