কারাগারে কবি কি নিছকই কবির কারাজীবনের কাহিনি? কবির কারাকালের ভবিতব্য তাঁর জন্মলগ্ন থেকেই রচিত হয়ে গিয়েছিল! কিশোর নজরুল তখন রাণীগঞ্জ সিয়ারসোল রাজ হাই স্কুলের ছাত্র। পাশের রাণীগঞ্জ হাই স্কুলের পড়ুয়া শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় কিশোর নুরুর অন্তরঙ্গ বন্ধু। ছাত্রাবস্থায় নজরুলের যুদ্ধবিদ্যার প্রীতির কথা শুনিয়েছেন কবিবন্ধু-সাহিত্যিক শৈলজানন্দ। কেউ ভোলে না কেউ ভোলে স্মৃতিগ্রন্থে শৈলজানন্দ লিখছেন, ‘নজরুল যুদ্ধবিদ্যা শিখে এসে ভারতবর্ষে এক বিরাট সৈন্যবাহিনী গঠন করে দেশ থেকে ইংরেজ তাড়াবে- তার এই গোপন মতলবের কথা আমাকে সে বলেছিল একদিন।’ আবার কিশোরবেলার স্মৃতিচারণে শৈলজানন্দ লিখছেন, ‘নজরুলের জীবনের নিগূঢ়তম বেদনার কাহিনিও আমি জানি। সেই বেদনার সঙ্গে মিশেছিল কৈশোরের দুর্দমনীয় অ্যাডভেঞ্চারপ্রীতি। তাই সবকিছু হাসিমুখে পরিত্যাগ করে সেও ঝাঁপ দিয়েছিল এই মারণ-যজ্ঞে।’ স্কুলজীবনের বন্ধু পঞ্চলাট-এর কেনা বন্দুক হাতে নিয়ে নজরুলের ইংরেজবিরোধিতার গল্প শুনিয়েছেন শৈলজানন্দ। কিশোর নুরু বন্দুক হাতে নিয়ে বলে ওঠে, ‘ইংরেজদের তাড়াতে হবে এদেশ থেকে।’ এয়ারগান দিয়ে হাতের নিশানা ঠিক করে পেঁপে গাছকে নিশানা করে ছোটোলাট, বড়োলাট থেকে শুরু করে পঞ্চম জর্জকে খতম করে ছোট্ট নজরুল।
মেহবুব কাদের চৌধুরী-র সম্পাদনা ও সংকলনে কারাগারে কবি দোর্দণ্ডপ্রতাপ অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় নজরুলকে চিনতে শেখায়। ছাত্রাবস্থায় নজরুলের দুর্নিবার বোহেমিয়ানপনার আঁচ পেয়েছিলেন কবির অন্তরঙ্গ বন্ধু শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়। কারাগারে কবি গ্রন্থে সেই সব সুখস্মৃতি উসকে দিয়েছেন লেখক। যে-কোনো ঘটনার অতীত প্রেক্ষাপট থাকে। লেখক তাই কারাগারে কবি লিখতে গিয়ে কবির কারাজীবনের সময়কাল থেকে পিছু হেঁটেছেন। নজরুলপ্রেমী গবেষকদের কাছে যা একটা বিশেষ দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পাবে নিশ্চিত।
গ্রন্থের রসদ জোগাতে নজরুলের দুটি অবিস্মরণীয় প্রবন্ধ-পাঠ পাঠককে সমৃদ্ধ করবে। কবির সহবন্দিদের স্মৃতিচারণও ঋদ্ধ করেছে কারাগারে কবি। কবির দুই বিশেষ বন্ধু (প্রাণতোষ চট্টোপাধ্যায় ও পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়)-র স্মৃতিচারণ উপেক্ষা করলে নজরুলের কারাজীবন কাহিনি অন্ধকারে রয়ে যায়।
কর্মবীর কিশোরীচাঁদ মিত্র / KARMABIR KISHORICHAND MITRA
গিরিশ পরিচয় / GIRISH PARICHOY 
Reviews
There are no reviews yet.