জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি মানে কি শুধুই রবীন্দ্রনাথ? না কি এ বাড়ির আনাচেকানাচে লুকিয়ে আছে রূপকথাসদৃশ আরও অনেক গল্প? প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঠাকুরবাড়ি রেনেসাঁসের আলো ছড়িয়ে দিয়েছে শুধু বাংলা বা ভারত নয়, সমগ্র বিশ্ব জুড়ে।
সুনির্মল চক্রবর্তী প্রণীত ঠাকুরবাড়ির রূপকথা তাই নিছক কোনো ভূস্বামী বংশের পারিবারিক গল্পকথা নয়, বরং তা আমাদের সংস্কৃতির ইতিহাসে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহমান এমন এক নবজাগরণের গল্প, আজকের পাঠকের কাছে যার আবেদন রূপকথারই মতো।
এ যেন ভারতের ভাগ্যাকাশে উদিত এক নতুন সূর্যের আলো, যে আলোকবৃত্তে একদিকে যেমন স্বমহিমায় বিরাজমান দ্বারকানাথ, দেবেন্দ্রনাথ, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রনাথ, অন্যদিকে তেমনই দেদীপ্যমান স্বর্ণকুমারী দেবী, জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, সরলা দেবী, গগনেন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ, রথীন্দ্রনাথ-সহ পরিবারের অগণিত কৃতী নারী-পুরুষ।
সুনির্মল চক্রবর্তী তাঁর এই বই শুরু করেছেন জোড়াসাঁকো ও নবনির্মিত ঠাকুরবাড়ির পরিচয় দিয়ে, তারপর ফিরে গেছেন পঞ্চানন কুশারীর হাত ধরে পরিবারের সূচনাপর্বে।
এরপর একে একে এসেছে দ্বারকানাথের শিল্পোদ্যোগ, বিশ্বব্যাপী তাঁর খ্যাতি ও প্রভাব, দেবেন্দ্রনাথের আধ্যাত্মিকতা ও ব্রাহ্মসমাজের উন্নতিকল্পে তাঁর অবদান, জ্যোতিরিন্দ্রনাথের নাট্য ও সংগীতচর্চা, রবীন্দ্রনাথের শৈশব, শিক্ষা ও সৃষ্টির বিস্ময়কর জগৎ, গগনেন্দ্রনাথ ও অবনীন্দ্রনাথের শিল্পসাধনা এবং রথীন্দ্রনাথের বহুমুখী কর্মযজ্ঞ।
এই বইয়ের অন্যতম আকর্ষণ ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল। নাট্যশালা, সন্তান-সন্ততি, কৃতী মেয়েরা, বেশভূষা, চাকরবাকরদের মহল, রান্নাবান্না, গান আর গুরুমশাইয়ের পাঠশালা মিলিয়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছে এক হারিয়ে যাওয়া সময়।
ঠাকুরবাড়ির রূপকথা তাই বাংলার নবজাগরণের ইতিহাসে গরিমাঋদ্ধ এক সময়ের ধারাবিবরণীই শুধু নয়, তা আমাদের কল্পনাপ্রতিভাকে উসকে দেওয়া এক অনন্য কালপর্বের পুনর্নির্মিত মুহূর্তকথাও বটে।
হেমন্ত বেলায় / HEMANTA BELAY 
Reviews
There are no reviews yet.