পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়
জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির কাছে বাঙালির ঋণের শেষ নেই। শুধু সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নয়, আমাদের জীবনের সর্বস্তরেই এই পরিবারের সুগভীর অবদান। এই পরিবারই আমাদের সমৃদ্ধ করেছে, আমরা আধুনিকতার আলোয় আলোকিত হয়েছি। ঠাকুরবাড়ির, বিশেষত রবীন্দ্রনাথের বিজ্ঞানমনস্কতার কথা হয়তো বা আমাদের জানা আছে, কিন্তু সে-পরিবারের বিজ্ঞানচর্চা ও ভাবনার কথা সেভাবে জানা নেই। এই অনালোচিত-অনালোকিত দিকটি এতদিনে উন্মোচিত হল লেখক-গবেষক পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিশ্রমী অনুসন্ধানে। রবীন্দ্রনাথের বিজ্ঞান গ্রন্থ বিশ্ব পরিচয় রচনার কথা আমরা কম-বেশি জানি। কবি অগ্রজ হেমেন্দ্রনাথও যে বিজ্ঞান নিয়ে বই লিখেছিলেন, সে সংবাদ ক-জন রাখি। ঠাকুরবাড়ির কন্যা ও বধূরাও বিজ্ঞান নিয়ে ভেবেছেন, লিখেছেন। মহর্ষি কন্যা স্বর্ণকুমারী দেবী বিজ্ঞান নিয়ে বই লিখেছেন। পরিবারের বধূ নরেন্দ্রবালা দেবী লিখেছিলেন বেশ ক-টি বিজ্ঞান-প্রবন্ধ। নরেন্দ্রবালাই বাংলা ভাষায় ছোটোদের প্রথম বিজ্ঞান লেখিকা। বহু দুর্লভ-দুষ্প্রাপ্য রচনার এই সমারোহ ঠাকুরবাড়ির নিরবচ্ছিন্ন বিজ্ঞান-ভাবনা সম্পর্কে আমাদের মনে এক স্পষ্ট ধারণা তৈরি করবে। ঠাকুরবাড়ি ঘিরে আমাদের রকমারি বিস্ময়। বিজ্ঞান-ভাবনার কথা বিশদভাবে জানার পর এই বিস্ময় আরও বহুগুণ বাড়বে। ঘোরতর অন্ধকারেও জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি আলো জ্বেলে রেখেছিল। সেই আলোতেই আমরা আলোকিত হয়েছি। পথ খুঁজে পেয়েছি। ঠাকুরবাড়ির বিজ্ঞান-ভাবনা_এই বই প্রকাশন-জগতে এক ঐতিহাসিক সংযোজন। এতকাল তো এ-বিষয়ে কেউ ভাবেননি। ভেবেছেন পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই ভাবনাকে স্বীকৃতি জানিয়ে পারুল গৌরবান্বিত।
WBSSC TARGET SLST ENGLISH 2025 
Reviews
There are no reviews yet.