CHIRIYAKHANA / চিড়িয়াখানা
₹120.00চঞ্চলকুমার ঘোষ
শুধুই চিড়িয়াখানার জীবজন্তুদের জীবনের আশ্চর্য এক জগৎ নয়, এই উপন্যাসে ভেসে উঠেছে বিচিত্র মানুষের বৈচিত্র্যময় জীবনকথা।
চঞ্চলকুমার ঘোষ
শুধুই চিড়িয়াখানার জীবজন্তুদের জীবনের আশ্চর্য এক জগৎ নয়, এই উপন্যাসে ভেসে উঠেছে বিচিত্র মানুষের বৈচিত্র্যময় জীবনকথা।
বুদ্ধদেব গুহ
কর্মজীবন থেকে সেমি-রিটায়ার্ড গৌতমনারায়ণ ধৃতির সঙ্গে এসেছেন চম্পাঝরনের বনবাংলোতে। একদিকে অনির্বচনীয় নৈসর্গিক সৌন্দর্য, অন্যদিকে নারীশরীরের নিষিদ্ধ আঘ্রাণ_এ আসলে আত্মানুসন্ধানী গৌতমনারায়ণের অন্য এক আরণ্যক নির্বাসন। একসময়ের দুর্ধর্ষ শিকারি এই মানুষটি নারীর হৃদয়শিকারেও সমদক্ষতার অধিকারী। শরীরের সংস্কারও তাঁর নেই। শুধু অ্যানজিওপ্লাস্টি হওয়ার পর থেকে বেপরোয়া অ্যাডভেঞ্চারের ঝোঁক হয়তো সংবৃত হয়েছে কিয়দংশ। সাতপুরা পর্বতমালার পটভূমিতে, ন্যারোগেজ রেললাইন পেরিয়ে, প্রাচীন মহুয়া গাছের আশ্রয়ে, টিটিপাখির ডাক শুনতে শুনতে মহারাষ্ট্রের এই অভয়ারণ্যে গৌতমনারায়ণ আত্মস্থ করছেন তাঁর মোহিনী, সুন্দরী পরিপার্শ্বকে। কিন্তু সুন্দরের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে অপ্রত্যাশিত কোনো ভয়ংকর। অষ্টমীর চাঁদের আলোকেও স্নান করে তীব্র আলোর ঝলকানি জঙ্গল চিরে কাদের যেন খুঁজতে থাকে। কী হল গৌতমনারায়ণের? ধৃতির সঙ্গে তাঁর বন্ধুতা কি কোনও পূর্ণতা পেল? নাকি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়ছে যারা, তিনি জড়িয়ে পড়লেন তাদের সঙ্গে আকস্মিক কোনো সংঘর্ষে? জানতে গেলে পড়তে হবে পাহাড়ি ঝরনার মতো উচ্ছলিত, অসমবয়সী প্রেমের এই অনুপম উপন্যাস।
প্রভাতী ভট্টাচার্য
চট্টগ্রামের এক বর্ধিষ্ণু গ্রামে মামাবাড়িতে বিদ্যোৎসাহী দাদা-দিদিদের সঙ্গে বড়ো হয়ে উঠছিল রূপা। শিল্পোদ্যোগী পিতার সাহচর্য ও স্নেহ সেই মেয়েবেলায় এনে দিয়েছিল সোনালি রোদ্দুর। পিতার পথ ধরেই রূপা আপন করে নিয়েছিল সংগীত-সাহিত্য–শিল্পকলার বিমূর্ত জগতকে। দেশভাগ বদলে দিল তার ছন্দোময় জীবনের যাত্রাপথকে। সাগরপাড়ি দিয়ে রূপারা এল কলকাতায়। তারপর? প্রভাতী ভট্টাচার্যর এই প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসে এক অদ্ভুত স্মৃতিমেদুর গদ্য আমাদের একাত্ম করে দেয় রূপার জীবনের সঙ্গে। তার জীবনযুদ্ধ হয়ে ওঠে আমাদেরই প্রতিদিন। আর সেই যাত্রাপথে রয়ে যায় সমসময়ের পদচিহ্ন। জীবনের এই জলছবি কখনো কখনো আবেগবিহ্বল আবার কখনো তা অশ্রুত কোনো রুদ্ধসংগীত।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাসের চরিত্রদের অনুভূতির অমোঘ টানাপোড়েন, হৃদয়ের গভীর উপলব্ধি আর মনের আকাঙ্ক্ষাকে ঘিরে আবর্তিত হতে থাকে কাহিনি। বাসনা রঙিন সেসব ঘটনার পাকেচক্রে কখনো মাথা তুলে দাঁড়ায় অধরা জীবন, কখনো বা চরিত্রদের মোহ আর ভালোবাসার জ্যোৎস্না-ভেজা অন্ধকারে মিটিমিটি কের হাসেন মাধুর্যময় জীবনদেবতা। শেষে বাঙ্ময় হয়ে ওঠে শাশ্বত জীবন। ‘ধূসর সময়’ কাহিনিতে আধা যৌথ পরিবারের মানুষজনকে ঘিরে প্রতিদিন রাতের খাওয়ার টেবিল হয়ে ওঠে যেন পরস্পরের কাছ থেকে মুখ দেখার আয়না। অলক পৃথিবার প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারানোর দুশ্চিন্তার খেই ধরে পেয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত চাকরি। ‘ফেরিঘাট’-এ অমিয় রাতে যখন ঘুমোয়, তখন এক আশ্চর্য সিংহের স্বপ্ন দেখে, সিংহের ডাক শুনতে পায়। আর অন্য ঘরে হাসির চোখে ঘুম নামতে চায় না। সে এক স্টিমারঘাটের দিকে এগিয়ে যায়। যে পার্থিব জীবনকে তারা একদিন হেলাফেলা করেছিল, সেই জীবন তাকে ডাকে। জীবনের কোন ফেরিঘাটে তারা গিয়ে পৌঁছোবে? এই সংগ্রহের পাঁচটি উপন্যাস এভাবেই গ্রথিত হয়েছে, যেখানে পাঠক খুঁজে পাবেন জীবনের আশ্চর্য টানাপোড়েন থেকে উঠে আসা হীরকখণ্ডের মতো এক-একটি বেঁচে ওঠার পরমপাথেয়। সেসব ছুঁয়ে ছুঁয়ে জীবন বয়ে চলে অকূলে, অনন্তের স্রোতে পাঠককে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।