উনিশ শতকের বাংলায় নবজাগরণের অন্যতম অগ্রপথিক পণ্ডিত মদনমোহন তর্কালঙ্কারের জীবন ও কর্মের এক সামগ্রিক প্রতিবেদন এই গ্রন্থে উপস্থাপিত। একজন সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত, কবি ও সাহিত্যিক, সমাজসংস্কারক, স্ত্রী-শিক্ষা ও শিশুশিক্ষার পথপ্রদর্শক এবং দক্ষ প্রশাসকের পরিচয়ে তাঁর স্বল্পস্থায়ী জীবনকাল বস্তুতপক্ষে এক মহাজীবনেরই ইতিকথা।
বর্তমান গ্রন্থে সমকালীন চিন্তাবিদদের অভিজ্ঞান এবং পরবর্তীকালের গবেষকবৃন্দের অন্তর্দৃষ্টিকে পাথেয় করে বিস্মৃতির অন্তরাল থেকে তাঁকে নতুন আলোকে উদ্ভাসিত করে তোলার এক বিনম্র প্রয়াস গৃহীত হয়েছে।
আধুনিক বাংলা কাব্য ও নাট্যসাহিত্যের অগ্রদূত মাইকেল মধুসূদন দত্ত আক্ষরিক অর্থেই ধারণ করেছিলেন ভারতীয় রেনেসাঁসের প্রায় সকল যুগচিহ্ন।
বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসে তিনিই আধুনিকতার পুরোধা পুরুষ। তাঁর হাত ধরেই বাংলা কাব্য ও নাট্যসাহিত্যে-প্রতীচ্য ও প্রাচ্যের অলঙ্কারশাস্ত্র ও রচনাশৈলী মিলেমিশে-প্রথম আন্তর্জাতিকতার অনুরণন শোনা যায়।
ঋষি দাস বিরচিত ‘মাইকেল মধুসূদন’ যুগান্তকারী সেই ইতিহাসপুরুষের অস্থির জীবন ও অপরিমেয় শিল্পপ্রতিভার এক বিশ্বস্ত ধারাবিবরণী। উনিশ শতকীয় বাংলার সমাজ, শিক্ষাব্যবস্থা, ধর্মসংঘাত ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের অমূল্য দলিল হিসেবেও
বইটি অবশ্যপাঠ্য।
অনেক শিল্পী নির্জনতা-বিলাসী কিংবা একান্তভাবে নিজের রং-তেল-জল-ক্যানভাস নিয়েই মগ্ন থাকেন আবার অনেক শিল্পী শিল্পের অন্যান্য শাখা সম্পর্কেও বিশেষ আগ্রহী। যেমন অনেক কবি ছবি দেখেন না, কবিতার জগৎ ছেড়ে অন্য দিকে মুখ ফেরান না, আবার অনেক কবি প্রেরণা পান ছবি কিংবা গান থেকে। আমরা আমাদের নিজেদের সীমানা ছাড়িয়ে অন্য যত কিছুই গ্রহণ করি না কেন, তাতেও আমাদের মস্তিষ্কে স্মৃতির অনেক কোষ খালি থাকে। সুতরাং গ্রহণ করার কোনো শেষ নেই।