দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন / DESHBANDHU CHITTARANJAN DAS
হেমেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত
শুধু দাতা, পরিত্রাতা অথবা দেশনেতা হিসেবে নয়, চিত্তরঞ্জন ছিলেন তাঁর সমকালে দেশর সবচেয়ে প্রখ্যাত আইনজীবী। তদুপরি, তাঁর সাহিত্যপ্রতিভার বিকাশও ঘটেছিল কবিতায়, গল্পে, প্রবন্ধে। কিন্তু এ-সকল পরিচয়ই লীন হয়ে একাত্ম হয়েছিল তাঁর ‘দেশবন্ধু’ নামে। শ্রীচৈতন্য থেকে রামমোহন, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, সুভাষচন্দ্র হয়ে মুজিবর রহমান, অমর্ত্য সেন অবধি বহু শ্রেষ্ঠ বাঙালির আবির্ভাব হয়েছে।
ক্ষুদিরাম / KHUDIRAM
বারিদবরণ ঘোষ
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের হাত থেকে স্বদেশকে উদ্ধার করে স্বাধীনতা অর্জনের সূচনাপর্বে যাঁরা আত্মোৎসর্গ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য ক্ষুদিরাম বসু। বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলন সবেমাত্র সংগঠিত হয়েছে, সহিংস বা অহিংস আন্দোলনের রূপরেখা তখনও অঙ্কিত হয়নি, কিন্তু দেশকে মুক্ত করার একটা স্বপ্ন তরুণ বাঙালিরা দেখছিলেন। এ কাজে জীবন তাঁদের কাছে পায়ের ভৃত্য হয়েছিল, মৃত্যু হয়েছিল বরণীয়। সংশপ্তকের প্রতিজ্ঞা নিয়ে এঁরা গোপনে গোপনে দেশমন্ত্রে উদবুদ্ধ হয়েছিলেন। সেই মন্ত্রই ক্ষুদিরাম-প্রফুল্ল চাকী-কানাইলালদের জাগিয়ে দিয়েছিল। সেই জাগরণী মন্ত্রে দীক্ষিত ক্ষুদিরাম সঙ্গী প্রফুল্ল চাকীকে নিয়ে দূর মজঃফরপুরে ব্রিটিশ শাসনযন্ত্রের এক অপরাধীকে হত্যা করার জন্য ছদ্মনামে গিয়েছিলেন। শৈশবোচিত একটা ভুলের শিকার হয়ে তাঁরা লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। পরিণামে প্রফুল্লের আত্মহত্যা আর ক্ষুদিরামের ফাঁসি_যে ফাঁসির যন্ত্রণা দেশকে আবার উদ্দীপনাময় করে তুলেছিল, বিকল হতে বসেছিল সমগ্র ব্রিটিশ নিপীড়নযন্ত্র। এ-বই সেই জাগরণী মন্ত্র, নিপীড়ন ও আত্মোৎসর্গের এক মহান কাহিনি।
বাবরের আত্মকথা || BABURER ATMAKOTHA
প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ স্ট্যানলি লেন-পুল যাঁকে ‘প্রাচ্যের জুলিয়াস সিজার’ বলে অভিহিত করেছেন, মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সেই জহিরুদ্দিন মুহম্মদ বাবর ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন তাঁর ব্যতিক্রমী আত্মজীবনী বাবরনামা গ্রন্থের জন্য।
বাবরনামা-র উৎকর্ষ বাবরের অকপটতায়। নিজের ব্যর্থতা, ভুল সিদ্ধান্ত, চারিত্রিক দুর্বলতা- কিছুই তিনি গোপন করেননি। সেইসঙ্গে রয়েছে মানবচরিত্র বিশ্লেষণ, শাসনব্যবস্থা ও সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর ভনিতাহীন মন্তব্য। ভৌগোলিক পর্যবেক্ষণ এবং প্রকৃতি ও প্রাণীজগতের সূক্ষ্ম বর্ণনা প্রদানেও তিনি অনবদ্য।
এই সেই বিরল গ্রন্থ যা একাধারে সমসময়ের বিশ্বস্ত দলিল এবং যুগপৎ এক সম্রাট ও এক মানুষের কালোত্তীর্ণ আত্মকথা।
JYOTIRINDRANATH KADAMBARI O RABINDRANATH ||
সম্পর্কের এক নতুন আলোয়
জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির দুই উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে কাদম্বরী দেবীর সম্পর্ক নিয়ে ইদানীং যে রুচিবিগর্হিত আলোচনা ক্রমবর্ধমান, তার বিরুদ্ধে এই বই।
এই গ্রন্থপাঠে জানা যাবে শুধু দুই ভ্রাতার মধ্যেই এক অপূর্ব সম্পর্ক ছিল না, কাদম্বরী দেবী ছিলেন স্বামী ও ভ্রাতৃসম দেবর, উভয়ের ক্ষেত্রেই আলোকবর্তিকাময় প্রেরণাদাত্রী।
গিরিশ পরিচয় / GIRISH PARICHOY
সুধীরকুমার মিত্র
নটসম্রাট গিরিশচন্দ্র ঘোষের কর্মময় জীবন, স্বদেশপ্রেম, নাট্যপ্রতিভা_এ গ্রন্থে আলোকিত হয়েছে ইতিহাসবিদ সুধীরকুমার মিত্রর স্বকীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে। পাশাপাশি, এ গ্রন্থে পাওয়া যাবে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত গিরিশ রচনাবলির তালিকা এবং ‘গিরিশচন্দ্র ঘোষ_জীবন, কর্ম ও সমকালীন ঘটনাবলি’ শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী তথ্যসংকলন।
গানের রাজা সুরের রাজপুত্র || GANER RAJA SURER RAJPUTRA – PANNALAL ROY
পিতা-পুত্র? গুরু-শিষ্য?
না কি তাঁরা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী?
শচীন দেববর্মন এবং রাহুল দেববর্মন।
এস ডি এবং আর ডি। পিতা যদি গানের রাজা হন, পুত্র তবে সুরের রাজপুত্র। ত্রিপুরার গৌরব উভয়েই। ভারতের গৌরব তো বটেই! তিপ্পান্নটি অধ্যায়ে বিভক্ত এই গ্রন্থ মজলিশি ঢঙে পাঠককে শোনায় দুই কর্তার অনবদ্য উপাখ্যান। সঙ্গে অতিরিক্ত প্রাপ্তি শতাধিক দুর্লভ আলোকচিত্র এবং তথ্যঋদ্ধ পরিশিষ্ট।
ত্রিপুরা তথা বাংলার এই দুই মহান সুরসাধককে নিয়ে এমন বিশ্বস্ত জীবন আলেখ্য বাংলা ভাষায় এই প্রথম!
গাঁইয়ার আপনকথা || GAIYAR APANKATHA
ব্যক্তিগত স্মৃতির ঊর্ধ্বে উঠে এই আত্মজীবনী বিংশ শতাব্দীর প্রথম অর্ধে ক্রমশ বদলে যেতে থাকা গ্রামবাংলার সামাজিক, শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক জীবনের এক ব্যতিক্রমী দলিল।
সেই সময়ের গ্রামীণ জীবন, সংস্কার, কুসংস্কার, পারিবারিক বন্ধন- ছবির মতো ভেসে ওঠে পাঠকের চোখের সামনে। লেখকের অনবদ্য বর্ণনাশৈলী সবকিছুকেই এমন এক পরিহাসাশ্রিত শ্লেষের ঢঙে পরিবেশন করে যে, প্রতিটি পৃষ্ঠাই হয়ে ওঠে পাঠযোগ্য।
সব মিলিয়ে, গাঁইয়ার আপনকথা আত্মজীবনীর আড়ালে বহুস্বরিক এক ভাষ্য- ব্যক্তিবিশেষের জীবনকথা হয়েও যা সমকালীন মানুষ ও সমাজের কথা বলে অকপটে।
শেষ সংবাদে নিবেদিতা / SESH SAMBADE NIBEDITA