এটি একটি পৌরাণিক সাহিত্যের বই |
THIS IS A POETRY BOOK.
‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের শিশু-কিশোরপাঠ্য সংস্করণের নামই আম-আঁটির ভেঁপু । ৩৫টি পরিচ্ছদের এই উপন্যাস ব্যঞ্জনাময় ৩টি অঙ্কে (বল্লালী-বালাই, আম-আঁটির ভেঁপু ও অত্রূর সংবাদ বিভক্ত)। অনেক পরে বিভূতিভূষণ যখন ‘পথের পাঁচালী’-র একটি কিশোর সংস্করণের কথা ভাবেন, তখন উপন্যাসের মধ্যম অঙ্ক নিয়ে ১৯টি অধ্যায়ে পুনর্নির্মাণ করেন মূল উপন্যাসকে। এভাবেই ‘আম-আঁটির ভেঁপু’ জন্ম নেয়। শিশু-কিশোরদের বোধগম্যতার জন্য বিভূতিভূষণ একদিকে যেমন অনেক শব্দের পরিবর্তন ও সংযোজন ঘটান, তেমনই অন্যদিকে অপরিবির্তিত রাখেন মূল উপন্যাসের সাধুভাষাকে। আমরা বিভূতিভূষণের অমর সৃষ্টিকে অবিকৃত রেখে শুধু সাধুভাষাকে বদলে নিয়েছি মূলানুগ মান্য চলিত ভাষায়। এর ফলে বর্তমান প্রজন্মের ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েরা অনায়াসে একাত্ম হতে পারবে এই মহৎ সৃষ্টির সঙ্গে। উপন্যাসের চিত্ররূপময় সেই আবেদন এখনকার ছেলেমেয়েদের কাছেও যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, সেইজন্য এই বইয়ের ছবি এঁকেছেন দেবব্রত ঘোষ। শব্দে, কথায়, ছবির জাদুতে আম-আঁটির ভেঁপু এক আশ্চর্য অভিযান।
হরিপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
বিশিষ্ট ক্রীড়াসাংবাদিক তথা ক্রীড়া বিষয়ক পরিসংখ্যানবিদ হরিপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আনুপূর্বিক ইতিহাস উপস্থাপিত করেছেন এই বইয়ে। প্রতিটি ক্রিকেট বিশ্বকাপের খুঁটিনাটির সঙ্গে এখানে রয়েছে বিশ্বকাপের নক্ষত্র পরিচয় ও বিবিধ নজিরের সম্পূর্ণ খতিয়ানও। ক্রিকেটপ্রেমী তো বটেই ক্রীড়াপ্রেমী পাঠকের কাছেও ক্রিকেট বিশ্বকাপের সচিত্র সংক্ষিপ্ত এই পরিচয়-এর আকর্ষণ দুর্নিবার।
প্রখ্যাত চিকিৎসক তথা কলকাতার প্রাক্তন শেরিফ ডা. দুলালকুমার বসু রচিত এই বইটিতে রবিনহুড কেবল শেরউড বনের রোমান্টিক নায়ক নন, বরং মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। ইতিহাস, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শেরিফপ্রথার বিবর্তনের আলোকে লেখক বিশ্লেষণ করেছেন রবিনহুডের বিদ্রোহী সত্তা।
ব্যক্তিগত স্মৃতি, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও তথ্যনিষ্ঠ অনুসন্ধান মিলিয়ে বইটি পেয়েছে এক স্বতন্ত্র বৌদ্ধিক গভীরতা। প্রাঞ্জল, স্বাদু গদ্যে লেখা বইটি শিশু, কিশোর ও ইতিহাসপ্রেমী পাঠক- সবার কাছেই সমান আকর্ষক!
আধুনিক বাংলা কাব্য ও নাট্যসাহিত্যের অগ্রদূত মাইকেল মধুসূদন দত্ত আক্ষরিক অর্থেই ধারণ করেছিলেন ভারতীয় রেনেসাঁসের প্রায় সকল যুগচিহ্ন।
বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসে তিনিই আধুনিকতার পুরোধা পুরুষ। তাঁর হাত ধরেই বাংলা কাব্য ও নাট্যসাহিত্যে-প্রতীচ্য ও প্রাচ্যের অলঙ্কারশাস্ত্র ও রচনাশৈলী মিলেমিশে-প্রথম আন্তর্জাতিকতার অনুরণন শোনা যায়।
ঋষি দাস বিরচিত ‘মাইকেল মধুসূদন’ যুগান্তকারী সেই ইতিহাসপুরুষের অস্থির জীবন ও অপরিমেয় শিল্পপ্রতিভার এক বিশ্বস্ত ধারাবিবরণী। উনিশ শতকীয় বাংলার সমাজ, শিক্ষাব্যবস্থা, ধর্মসংঘাত ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের অমূল্য দলিল হিসেবেও
বইটি অবশ্যপাঠ্য।
উপমহাদেশের ক্রমবর্ধমান ঘৃণা, বিদ্বেষ ও বিভাজনের রাজনীতির প্রেক্ষিতে এই প্রশ্নগুলির উত্তর জানা জরুরি। ঋষি দাস প্রণীত বাদশা খান আমাদের সেই উত্তরগুলিই শুধু দেয় না, সেই সঙ্গে পরিচিত করে এক অনন্য মহাজীবনের সঙ্গে, যা আমাদের দেয় অহিংসা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নৈতিক রাজনীতির এক ব্যতিক্রমী পাঠ।