বাংলা উপন্যাস সম্প্রতি নাগরিক প্রেমের গতানুগতে হাঁফাইয়া মরিতেছে, এমন একটি শোক-প্রস্তাব শুনা যায়। সৌম্য ভট্টাচার্যের গৌড়গোধূলি (পারুল) তাহার বিপক্ষে দাঁড়াইতে পারে।… ইহা বলিতেই হইবে ইতিহাসাশ্রয়ী বিষয়ে এবং উপস্থাপনে বাংলা সাহিত্যের সাম্প্রতিকে এই উপন্যাস নূতন ধরনের।
খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীর শেষপর্বে গৌড়বঙ্গে সেন সাম্রাজ্যের পতনকাল ইহার ইতিহাস-প্রেক্ষিত। কেন্দুবিশ্বের কদম্বখণ্ডীর ঘাটে যে ভাবে উপন্যাসের ঘটনা-উন্মোচন করিয়াছেন ঔপন্যাসিক তাহা সহসা বঙ্কিমচন্দ্রকে মনে পড়াইয়া দেয়। প্লটনির্মাণ এবং দৃশ্যকল্পনায়ও লেখকের শক্তি প্রশংসনীয়।
বইপোকা, আনন্দবাজার পত্রিকা
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
চিত্রনাট্য ও ছবি: সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়
স্কুলের পরীক্ষায় অঙ্কে তেরো পাওয়ামাত্রই বুরুনের চেনা পৃথিবীটা যায় উলটেপালটে। না, ধোলাই বা রামধোলাই নয়, বাবার নির্দেশে বাড়ির সবাই বুরুনকে বয়কট করে। দাদু রাম কবিরাজ ছাড়া আর কেউ তাকে ভালোবাসে না_বুঝতে পারে অভিমানী বুরুন। হাঁটতে হাঁটতে সে হাজির হয় গোঁসাইদের পোড়োবাগানে। সেখানে দেখা হয় নিধিরামের সঙ্গে। কে নিধিরাম? সে কি কোনো ভূত ? নাকি বুরুনের অদ্ভূতুড়ে নতুন দোস্ত?
হেমেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত
শুধু দাতা, পরিত্রাতা অথবা দেশনেতা হিসেবে নয়, চিত্তরঞ্জন ছিলেন তাঁর সমকালে দেশর সবচেয়ে প্রখ্যাত আইনজীবী। তদুপরি, তাঁর সাহিত্যপ্রতিভার বিকাশও ঘটেছিল কবিতায়, গল্পে, প্রবন্ধে। কিন্তু এ-সকল পরিচয়ই লীন হয়ে একাত্ম হয়েছিল তাঁর ‘দেশবন্ধু’ নামে। শ্রীচৈতন্য থেকে রামমোহন, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, সুভাষচন্দ্র হয়ে মুজিবর রহমান, অমর্ত্য সেন অবধি বহু শ্রেষ্ঠ বাঙালির আবির্ভাব হয়েছে।
চিত্রনাট্য ও ছবি: সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়
পাগলা দাশুকে কে না-চেনে? যেমন অদ্ভুত তার কথাবার্তা, তেমনই বিটকেল তার আচার-আচরণ! চেহারায়, কথাবার্তায়, চালচলনেই বোঝা যায় তার মাথায় একটু ছিট আছে! কিন্তু বোকা সে একেবারেই নয়। অঙ্ক কষার সময় দিব্যি তার মাথা খোলে! আর বন্ধুদের বোকা বানিয়ে তামাশা দেখার জন্য এমন ফন্দি দাশু বার করে, যে তার বুদ্ধির তারিফ না-করে পারা যায় না!
কুলদারঞ্জন রায়ের হাত ধরেই শার্লক হোমসের সঙ্গে বাঙালি পাঠকের প্রথম সার্থক পরিচয়।
স্যার আর্থার কনান ডয়েলের
দ্য হাউন্ড অব দ্য বাস্কারভিলস-এর কুলদারঞ্জন-কৃত ভাষান্তরই বাংলা ভাষায় হোমসকাহিনির প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ। পরবর্তীকালে, কুলদারঞ্জন রচনা করেন ‘শার্লক হোমসের বিচিত্র কীর্ত্তি-কথা’। এই অনুবাদে একদিকে যেমন তিনি থেকেছেন মূলের প্রতি বিশ্বস্ত, অন্যদিকে তাঁর ভাষান্তর কখনওই আক্ষরিক হয়ে যায়নি। কনান ডয়েলের রচনার ভাব, গতি ও রসকে বাংলা ভাষার নিজস্ব চলন ও স্পন্দে ধারণ করে তাঁর অনুবাদ হয়ে উঠেছে অপূর্ব এক পুনঃসৃজন! হোমস ও ওয়াটসন হয়ে ওঠেন বাঙালির একান্ত আপনজন।