বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
চিনের আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসবে ভারতের প্রতিনিধি কবি এই উপন্যাসের নায়ক নয়, সূত্রধরমাত্র। তবু সেই সূত্রেই সে হয়ে ওঠে এক আশ্চর্য আখ্যানের অংশ। আবিষ্কার করে সাসপেন্সের সুতো নয়, জীবন এবং উপন্যাস দুটোকেই এগিয়ে নিয়ে চলে বিনিসুতোর ভালোবাসা। এই উপন্যাসে চিন কোনো টুরিস্ট স্পট নয়। কম্পাস যেরকম একটা বিন্দুর ওপর পা রেখে এঁকে ফেলে বড়ো একটা বৃত্ত, চিন এখানে সেরকমই এক বিন্দু। সেই বিন্দুতে সারা পৃথিবীর কাহিনিসিন্ধু এসে মিশেছে। ঢেউয়ের পরে ঢেউ ভেঙে ওরাই গড়ে তুলেছে তারাবন্দর।
১২টি অধ্যায়ে বিভক্ত কুইজ এক্সপ্রেস কিছু পরস্পর-বিচ্ছিন্ন প্রশ্নের দায়সারা সংকলন নয়, এটি লেখকের দীর্ঘ দু-দশকব্যাপী কুইজচর্চার ফসল। তাই এর চয়িত অধ্যায় এবং নির্বাচিত প্রশ্নমালা এত বিচিত্র, এত ব্যঞ্জনাময়। শুধু স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী কিংবা কুইজপাগল জেনারেশন ওয়াই নয়, সব বয়সের সব পেশার পাঠকই মশগুল হবেন এ-বইয়ে। কুইজকে প্রতিদিনের জীবনে প্রাসঙ্গিক করে তোলার জন্য রাজীবের লড়াই বহুদিনের। প্রথম থেকেই তিনি ব্যতিক্রমী_প্রথা ভেঙে কুইজকে মঞ্চে, মঞ্চের বাইরে উপস্থিত করেছেন নতুন আঙ্গিকে। কর্পোরেট কুইজ, বিজনেস কুইজ, সাইবার কুইজ, ম্যাথ কুইজ_গাম্ভীর্যের চেনা বিগ্রহ ভেঙে তাঁর সঞ্চালনায় হয়ে উঠেছে উপভোগ্য। বিনোদনকে তিনি মিলিয়েছেন মননের সঙ্গে। পাশাপাশি, প্রচলিত পশ্চিমি অনুচিকীর্ষাকে এড়িয়ে কুইজে এনেছেন এক দেশজ আঘ্রাণ। আবার প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসবে যারা, তাদের জন্যও এ-বইয়ে রয়েছে নানান প্রশ্নের সমাহার। সঙ্গে থাকছে ৪ রাউন্ড-এর একটি মাল্টিমিডিয়া সিডিও। সব মিলিয়ে কুইজ এক্সপ্রেস-এর আছে এক দুরন্ত গতি, যা সব পাঠককে নিয়ে যাবে এক অবিস্মরণীয় রোমাঞ্চকর সফরে।