গোপাল ভাঁড় যতটা হাস্যময়, ততটাই রহস্যময়। লোকশ্রুতি তাঁকে নদিয়াধিপতি মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সভাসদ বানালেও তাঁর ‘ঐতিহাসিকতা’ সম্পর্কে সন্দিহান বহু গবেষক। অনেকে আবার এমনও অনুমান করেছেন যে, গোপাল ভাঁড় হয়তো-বা ছদ্মনামের আড়ালে কোনো বাস্তব চরিত্র। গোপালের সময়ের কোনো বইপত্রে গোপাল ভাঁড়ের নাম পাওয়া যায় না।
বিশ্বমনাঃ রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে সুনীতিকুমার বিভিন্ন সময়ে যে প্রবন্ধগুলি রচনা করেছিলেন, এই গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে ভাষাচার্যের সেই রচনাগুলি। সেইসঙ্গে স্থান পেয়েছে উভয়ের মধ্যে বিনিমিত চিঠিপত্রও।
দুর্লভ নথি ও বিস্মৃতপ্রায় আলোকচিত্রের অমূল্য এই সংগ্রহ প্রকৃত প্রস্তাবে স্মৃতির সরণি বেয়ে ভারতবর্ষের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’-এর সার্ধশতবর্ষ পরিক্রমা।
এতে বিধৃত রয়েছে ‘বন্দে মাতরম্’ রচনার প্রেক্ষাপট-সহ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই সংগীতের স্পর্শধন্য ইতিহাসের অক্ষয় পরিচয়বাহী প্রতিটি মুহূর্ত। রবীন্দ্রনাথের সতীর্থ হরিশচন্দ্র হালদার-সহ বহু কৃতবিদ্য, বরেণ্য শিল্পীর মহত্তর লক্ষ্যে উত্তীর্ণ শিল্পকর্ম, প্রাজ্ঞ মনীষীদের বঙ্কিম-প্রশস্তি, নানা ভাষায় ‘বন্দে মাতরম্’-এর তরজমা, দুষ্প্রাপ্য আলোকচিত্র, বঙ্কিমচন্দ্র এবং তাঁর অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম্’ সম্পর্কিত স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম এবং প্রচারপত্র, ভারতীয় পতাকার বিবর্তন, বিদেশে গীত ‘বন্দে মাতরম্’, দেশাত্মবোধক কবিতা ও গান, বঙ্গ বিভাগের বিক্ষুব্ধ পরিবেশের চিহ্নবাহী স্মারক, জালিয়ানওয়ালাবাগ প্রসঙ্গ, অমৃতবাজার পত্রিকা, অনুশীলন সমিতি, যুগান্তর পত্রিকা-র অনুষঙ্গ, ভারতের জাতীয় কংগ্রেস এবং ‘বন্দে মাতরম্’ প্রসঙ্গ, শ্রীঅরবিন্দ ও ‘বন্দে মাতরম্’, ‘বন্দে মাতরম্’-নির্ভর চলচ্চিত্রের পুস্তিকা ও বিজ্ঞাপন, মুদ্রায় উৎকীর্ণ ‘বন্দে মাতরম্’, বিজ্ঞাপনে ‘বন্দে মাতরম্’, ‘বন্দে মাতরম্’-এর জনপ্রিয় রেকর্ড প্রসঙ্গ, আনন্দমঠ উপন্যাসের কাহিনির পটভূমিতে স্থাপিত ‘বন্দে মাতরম্’- মুদ্রিত পৃষ্ঠা, বঙ্গদর্শন পত্রিকার প্রচ্ছদ, শিশুশিল্পীদের আঁকা ‘বন্দে মাতরম্’ ভাবমূল-নির্ভর চিত্র এবং মনীষীদের দৃষ্টিতে ‘বন্দে মাতরম্’।
শুধু তা-ই নয়, এ বইয়ের পাতা উলটে আগ্রহী পাঠক তথা শ্রোতা শুনে নিতে পারবেন রবীন্দ্র-কণ্ঠে স্বদেশি কবিতা ও গান।
দুই মলাটের মধ্যে এই অনন্য অভিযাত্রার দলিল নির্মাণ এ যাবৎ অপেক্ষিত ছিল।