মহাকবি সোমদেব ভট্ট
কথারূপ সরিৎসমূহের সাগর-ই কথাসরিৎসাগর। মহাকবি সোমদেব ভট্ট বিরচিত এই মহাগ্রন্থের স্বাদু অনুবাদ ও পুনঃকথন এই প্রথম বাংলায়। গল্পের মধ্য থেকে বেরিয়ে আসছে আর-একটি গল্প। তা থেকে আরও একটি _এরকমভাবে গল্পের প্রবাহ সৃষ্টি করেছে অসংখ্য তরঙ্গের যারা মিলেমিশে তৈরি করেছে কথাসাহিত্যের এক অতলান্ত সমুদ্র যা বহু ক্ষেত্রেই আদি ও বীভৎসরসে সিঞ্চিত। এতৎসত্ত্বেও গৃহী পাঠকের জন্য এখানে উপস্থিত হিতকথা, নীতিবাক্য ও শাস্ত্রীয় উপদেশ।
পুরঞ্জনপ্রসাদ চক্রবর্তী
ধর্ম বলতে স্বামীজি কোনো বিশেষ মতবাদকে বোঝাতে চান কি না, সে সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, ‘সব ধর্মের সংকীর্ণতা দূরীভূত করে এক উদার মানবধর্ম প্রচার করার জন্য শ্রীরামকৃষ্ণদেব ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছিলেন_আমি শুধু সে কথাটিই প্রচার করতে চাই। আমার মতে ধর্ম যদি মানুষের অন্তরে শক্তি জোগাতে না পারে, তবে তা ধর্মই নয়।’ প্রকৃত অর্থে তথাকথিত অচলায়তন ধর্মের প্রতি প্রবল অনাস্থাতেই বিশ্বপরিব্রাজক এই সন্ন্যাসী মানবসেবার কর্মযজ্ঞে নিবেদন করেছিলেন নিজেকে। মানবতাবাদী এই মহাজনের বহু আলোচিত জীবনালেখ্যকে এক নতুন বাকবিন্যাসে, অভিনব বিশেষণে দিশাহীন নবপ্রজন্মের ভরসা-স্থল করে তুলতে চেয়েছেন কর্মযোগী বিবেকানন্দ গ্রন্থের প্রণেতা। গ্রন্থের পরিশেষে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিকভাবেই লেখক সংযোজন করেছেন স্বামীজির অমূল্য বাণী এবং তাঁর প্রতি বিভিন্ন মনীষী ও বিশিষ্টজনের উল্লেখযোগ্য অভিমত। ভগিনী নিবেদিতা, সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধি প্রমুখ বিশিষ্টজনের সশ্রদ্ধ অভিমতের আলোয় দীপিত হবেন পাঠক।
সম্পাদনা অলোক রায়
কিশোরীচাঁদ মিত্রের চরিত মন্মথনাথ ঘোষের প্রথম রচনা। রচনাটি কর্মবীর কিশোরীচাঁদ মিত্র শিরোনামে গ্রন্থাকারে ১৯২৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় সমগ্র রচনাটির ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। সমগ্র রচনায় বিশিষ্ট এই গ্রন্থপ্রণেতা কর্মবীর কিশোরী চাঁদকে যথার্থভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কর্মবীর কিশোরীচাঁদ মিত্র লেখকের কথায় ‘প্রস্তাবটির পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত হইবার পর কিশোরীচাঁদ মিত্রের ত্রিশ-চল্লিশটি বক্তৃতা এবং অন্যান্য উপকরণ সংগ্রহ করিয়াছি। সেগুলির যথাযোগ্য সদব্যবহার করতে পারি নাই’। লেখকের এই আক্ষেপের কথা মনে রেখেই পুনর্মুদ্রিত এই গ্রন্থে কিশোরীচাঁদ মিত্রের যেসব রচনা ও বক্তৃতার সন্ধান পাওয়া গেছে তাঁর তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে। আলালের ঘরে দুলাল রচয়িতা প্যারীচাঁদ মিত্রের অনুজ কিশোরীচাঁদ মিত্রের ইংরাজিতে লেখা ডায়েরি বা রোজনামচার আংশিক ব্যবহার গ্রন্থটিকে প্রাঞ্জল করেছে। কিশোরীচাঁদের সহধর্মিনী কৈলাসবাসিনীর আত্মকথা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিকভাবে বইটির সংযোজন অংশে ব্যবহৃত হয়েছে। দুঃষ্প্রাপ্য এই রচনার পুনর্মুদ্রণ ‘শুধু কিশোরীচাঁদের জীবনীর পরিপূরক নয়, উনিশ শতকে বাঙালি সমাজের অন্তঃপুরে অন্তরঙ্গ চিত্রহিসেবে আত্মকথাটি মূল্যবান।’
প্রশান্ত মাজী
কমলকুমার মজুমদারের শুধুমাত্র প্রকাশিত গ্রন্থ থেকে নয়, তাঁর বহু অপ্রকাশিত ও অগ্রন্থিত রচনা থেকে তথ্য আহরণ করে এই বইটি রচিত। তাই কমলকুমারের সামগ্রিক জীবন ও শিল্পীসত্তাকে জানতে এবং কমলকুমারের ধ্রুপদি রচনায় মনোনিবেশ করতে সেসব তথ্য পাঠককে অনেকটাই আলো দেখাবে। এই বই তাই কমলকুমারের লেখক ও শিল্পীজীবনে প্রবেশের এক সংক্ষিপ্ত পরিচয়-কথা। স্বাদু ও সহজ গদ্যে লেখক তুলে ধরেছেন সেই সংক্ষিপ্ত সাহিত্য–জীবন-শিল্প-কথার ধারাবিবরণ।
প্রবীরকুমার চট্টোপাধ্যায়
দুর্গাপূজা নিঃসন্দেহে বাঙালির জাতীয় উৎসব। ধর্মীয় অনুষঙ্গের সীমাবদ্ধতা পার করে এই পূজা বৃহত্তর বঙ্গভূমির মিলনোৎসব। অথচ অধিকাংশ পূজকের কাছেই এই পূজার মন্ত্রের অর্থ অবিদিত। সংস্কৃত শিক্ষার সার্বিক অবনমন ও ক্রমাবলুপ্তিই হয়তো এর কারণ। এই অমার্জনীয় ত্রুটি পূজাকে অসম্পূর্ণ ও অসার্থক করে তোলে, যেহেতু অর্থবোধহীন মন্ত্রোচ্চারণ প্রলাপেরই শামিল। কালিকাপুরাণোক্ত দূর্গাপূজা পদ্ধতি এই প্রথম বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশিত হল। মহামহোপাধ্যায় শ্যামাচরণ কবিরত্ন বিদ্যাবারিধি মহাশয়ের প্রদর্শিত পথে এই অনুপাদ ধর্মপ্রাণ পাঠক, নিষ্ঠাবান পূজক এবং ধর্মশাস্ত্রের অনুসন্ধিৎসু গবেষক_সকলের কাছেই এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে।