কুলদারঞ্জন রায়ের হাত ধরেই শার্লক হোমসের সঙ্গে বাঙালি পাঠকের প্রথম সার্থক পরিচয়।
স্যার আর্থার কনান ডয়েলের
দ্য হাউন্ড অব দ্য বাস্কারভিলস-এর কুলদারঞ্জন-কৃত ভাষান্তরই বাংলা ভাষায় হোমসকাহিনির প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ। পরবর্তীকালে, কুলদারঞ্জন রচনা করেন ‘শার্লক হোমসের বিচিত্র কীর্ত্তি-কথা’। এই অনুবাদে একদিকে যেমন তিনি থেকেছেন মূলের প্রতি বিশ্বস্ত, অন্যদিকে তাঁর ভাষান্তর কখনওই আক্ষরিক হয়ে যায়নি। কনান ডয়েলের রচনার ভাব, গতি ও রসকে বাংলা ভাষার নিজস্ব চলন ও স্পন্দে ধারণ করে তাঁর অনুবাদ হয়ে উঠেছে অপূর্ব এক পুনঃসৃজন! হোমস ও ওয়াটসন হয়ে ওঠেন বাঙালির একান্ত আপনজন।
প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ স্ট্যানলি লেন-পুল যাঁকে ‘প্রাচ্যের জুলিয়াস সিজার’ বলে অভিহিত করেছেন, মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সেই জহিরুদ্দিন মুহম্মদ বাবর ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন তাঁর ব্যতিক্রমী আত্মজীবনী বাবরনামা গ্রন্থের জন্য।
বাবরনামা-র উৎকর্ষ বাবরের অকপটতায়। নিজের ব্যর্থতা, ভুল সিদ্ধান্ত, চারিত্রিক দুর্বলতা- কিছুই তিনি গোপন করেননি। সেইসঙ্গে রয়েছে মানবচরিত্র বিশ্লেষণ, শাসনব্যবস্থা ও সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর ভনিতাহীন মন্তব্য। ভৌগোলিক পর্যবেক্ষণ এবং প্রকৃতি ও প্রাণীজগতের সূক্ষ্ম বর্ণনা প্রদানেও তিনি অনবদ্য।
এই সেই বিরল গ্রন্থ যা একাধারে সমসময়ের বিশ্বস্ত দলিল এবং যুগপৎ এক সম্রাট ও এক মানুষের কালোত্তীর্ণ আত্মকথা।