প্রাবন্ধিক হরিপদ দে-র বিচিত্রগামী অনুসন্ধিৎসা আমাদের প্রণোদিত করেছে নৃতত্ত্ব, বাংলা সাহিত্য প্রাচীন যুগ, বাংলা সাহিত্য মধ্য যুগ, বাংলা সাহিত্য আধুনিক যুগ, বাংলা লোকসাহিত্য, বিবিধ এবং রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ প্রসঙ্গ- সকল প্রবন্ধকে এই সাতটি শীর্ষকের অর্ন্তভুক্ত করতে। প্রবন্ধগুলির সহজ সরল ভাষা, বক্তব্যবিষয়ের সরল উপস্থাপনা এবং বিষয়-অতিরিক্ত মননঋদ্ধতা প্রাবন্ধিক হিসেবে লেখকের জাত চিনিয়ে দেয়।
‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের শিশু-কিশোরপাঠ্য সংস্করণের নামই আম-আঁটির ভেঁপু । ৩৫টি পরিচ্ছদের এই উপন্যাস ব্যঞ্জনাময় ৩টি অঙ্কে (বল্লালী-বালাই, আম-আঁটির ভেঁপু ও অত্রূর সংবাদ বিভক্ত)। অনেক পরে বিভূতিভূষণ যখন ‘পথের পাঁচালী’-র একটি কিশোর সংস্করণের কথা ভাবেন, তখন উপন্যাসের মধ্যম অঙ্ক নিয়ে ১৯টি অধ্যায়ে পুনর্নির্মাণ করেন মূল উপন্যাসকে। এভাবেই ‘আম-আঁটির ভেঁপু’ জন্ম নেয়। শিশু-কিশোরদের বোধগম্যতার জন্য বিভূতিভূষণ একদিকে যেমন অনেক শব্দের পরিবর্তন ও সংযোজন ঘটান, তেমনই অন্যদিকে অপরিবির্তিত রাখেন মূল উপন্যাসের সাধুভাষাকে। আমরা বিভূতিভূষণের অমর সৃষ্টিকে অবিকৃত রেখে শুধু সাধুভাষাকে বদলে নিয়েছি মূলানুগ মান্য চলিত ভাষায়। এর ফলে বর্তমান প্রজন্মের ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েরা অনায়াসে একাত্ম হতে পারবে এই মহৎ সৃষ্টির সঙ্গে। উপন্যাসের চিত্ররূপময় সেই আবেদন এখনকার ছেলেমেয়েদের কাছেও যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, সেইজন্য এই বইয়ের ছবি এঁকেছেন দেবব্রত ঘোষ। শব্দে, কথায়, ছবির জাদুতে আম-আঁটির ভেঁপু এক আশ্চর্য অভিযান।
গ্রন্থটি দু-টি খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম খণ্ডে আলোচিত হয়েছে পাখি ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের কথা। সেই সূত্রে এসেছে পুরাণ, সাহিত্য ও শিল্পের বিবিধ প্রসঙ্গ। দ্বিতীয় খণ্ডে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সর্বমোট ৯২টি বিহঙ্গকথা বা পাখি বিষয়ক গল্প সংকলিত হয়েছে।
অধিকাংশ ইনশিয়োরেন্স এজেন্ট আজীবন এজেন্টই থেকে যান, তাঁরা আর মানুষের বিমাবন্ধু হয়ে উঠতে পারেন না। কীভাবে কোনো মানুষকে সঠিকভাবে উদ্দীপ্ত ও সচেতন করে তাঁর ‘ইনশিয়োর্ড’ হওয়া ‘এনশিয়োর’ করা যায়, কীভাবে আদর্শ বিমাবন্ধু হয়ে ওঠা যায়- সেই পথই ধাপে ধাপে দেখাবে প্রত্যেক লাইফ ইনশিয়োরেন্স এজেন্ট-এর অবশ্যপাঠ্য এই বই।
শিশুসাহিত্যে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সুনির্মল চক্রবর্তী গুজরাটি লোককথার বিপুল সম্ভার থেকে আমাদের জন্য উদ্ধার করে এনেছেন মোট ৭টি গল্প। সাতরঙা রামধনুর মতোই রঙিন তারা। আজকের ছোটোদের কাছে তো বটেই, কখনো যাঁরা ছোটো ছিলেন- তাঁদের কাছেও চিরকালীন এই লোককথাগুলির অবেদন ফুরিয়ে যাওয়ার নয়।
এই গ্রন্থের সামাজিক অবক্ষয়ের কদর্যতম রূপ। কিছু নিবন্ধ আবার মাধুর্য ও মানবিক সম্পদে সমৃদ্ধ। একের পর এক প্রবন্ধে আলোকিত হয়েছে এতাবৎ অজ্ঞাত বিবিধ বিষয়- তা সে পৃথিবীর প্রাচীনতম মৃৎপাত্রই হোক, কিংবা কলকাতার মৃত্যুজগৎ।
যশস্বী সাংবাদিক গোপালকৃষ্ণ রায়ের জন্ম ওপার বাংলায়। কিন্তু তাঁর মনন ও চেতনা পরিপু্ষ্ট হয়েছে এপার বাংলার কৃষ্ণনগরে- এক ঐতিহ্যময় সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে।