স্বপ্নে-পাওয়া কাহিনি আর ত্রিপুররাজ-পরিবারের মনোহর ইতিহাস নিয়ে রবীন্দ্রনাথ অহিংসমন্ত্রে রচনা করেছিলেন তার অনুপম উপন্যাস রাজর্ষি।
রাজকাহিনী / RAJKAHINI
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজকাহিনী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। টডের রাজপুত কাহিনি অবলম্বনে মধ্যযুগীয় রাজপুত রাজাদের বীরত্ব, ত্যাগ ও মহিমার এমন রূপনির্মাণ শুধু বাংলা সাহিত্যে কেন আন্তর্জাতিক সাহিত্যেও দুর্লভ। রাজপুত চিত্রকলার সঙ্গে শিল্পী অবনীন্দ্রনাথের পরিচয় উনিশ শতাব্দীর শেষ প্রান্তে এসে। যখন তিনি কচ ও দেবযানী, রাধাকৃষ্ণের ছবি বা মোগল চিত্রাবলী আঁকছিলেন, তখনই রাজকাহিনীর রচনা। টডের ইতিহাস অবনীন্দ্রনাথের প্রেরণা হলেও সে আকরকে ব্যবহার করে তিনি সৃজন করেছেন শব্দ-ছবির এমন এক ভিন্ন রূপ জগৎ, শৌর্য, বীর্য, আত্মোৎসর্গ এবং দেশপ্রেমের মহিমায় যা প্রোজ্জ্বল। অবনীন্দ্রনাথের সংগীতময় অসামান্য স্পন্দিত গদ্য রাজকাহিনীর কাহিনিগুলিকে দান করেছে এক অনন্য বিশিষ্টতা। কল্পনায় তিনি পূরণ করেছেন বাস্তবের সংগত অনেক দাবি। ভাষার ঐশ্বর্য সেই কল্পনালীলার সঙ্গে মিলিয়েছেন তাল। সর্বোপরি, পাঠকের অখণ্ড মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক হয়েছে অবনীন্দ্রনাথের অননুকরণীয় রচনাকৌশল যা একইসঙ্গে কুশলী ও চিত্তগ্রাহী। সবমিলিয়ে, রাজকাহিনী আজও বাঙালি পাঠকের কাছে সেরা কিশোর ক্লাসিক।
সমাজবিপ্লবী আম্বেদকর – জীবন ও সাধনা | SOMAJBIPLABI AMBEDKAR – JIBAN O SADHANA
‘I measure the progress of a community by the degree of progress which women have achieved.’
B. R. Ambedkar
এগারোটি প্রবন্ধে সমাজবিপ্লবী বি আর আম্বেদকরের ব্যতিক্রমী জীবন ও কর্মের পুনর্মূল্যায়ন।
শৌখিন ঘন্টার হুইস্ল / SOUKHIN GHANTAR WHISTLE
সতীনাথ মাইতি
মুহূর্তের বর্ণচ্ছটায় উদ্ভাসিত পৃথিবী। সেই জলছবি আঁকেন যে কবি, মৃত্যুমুখী তাঁর জীবনের দুর্নিবার গতিকে থামায় কবিতা, হয়তো বা নারীও কোনো। গ্রাম থেকে শহর ভাসে লোনা অভিজ্ঞানে।
উত্তরকথা – সৈকত রক্ষিত / UTTARKATHA – Saikat Rakshit
সৈকত রক্ষিতের নির্বাচিত গল্পসংগ্রহ
চিরায়ত কথাসাহিত্য হিসেবে স্বীকৃত যা, তার চৌহদ্দির বাইরেও প্রতিনিয়ত জায়মান এক সাহিত্য। হয়তো নবীন বহতা কথাসাহিত্যের এই ধারাই একদিন নব প্রাণশক্তিতে উজ্জীবিত করবে বাংলা ছোটোগল্পকে। মুহূর্তকথার পর তাই উত্তরকথা। উত্তর এখানে যেমন পরবর্তী, তেমনই অমোঘ প্রকৃতি-মানুষের বহুকৌণিক সম্পর্কের প্রতিফলনে ধরা পড়া আখ্যানের আভাষ-নির্মাণে। ছোটোগল্পই নিঃসংশয়ে সেই ফর্ম যা কিনা ভাঙচুর এইসময়ের টানাপোড়েন আর তার গলনমুহূর্তকে ছুঁয়ে নিতে পারে এক অনন্ত দ্রাঘিমায়। উত্তরকথা-র প্রথম পর্যায়ে আমরা বেছে নিয়েছি সমসময়ের কয়েকজন বিশিষ্ট কথাকারকে। তাঁদের নির্মেদ শক্তিশালী গদ্যেই খুঁজে নেওয়া যাক বাংলা ছোটোগল্পের পরবর্তী অভিমুখ।
ভাস্কার চিত্রকর ভূনাথ মুখোপাধ্যায় / BHASKAR CHITRAKAR BHUNATH MUKHOPADHYAY
দেবরঞ্জন চক্রবর্ত্তী
যুগপৎ প্রাচ্য ও প্রতীচ্য ধারায় শিক্ষিত ভূনাথ মুখোপাধ্যায়ের শিল্পকর্ম একসময় দেশেবিদেশে কলারসিকদের সমাদর লাভ করেছিল। প্রতিকৃতি অঙ্কনে, নিসর্গদৃশ্য রচনায় কিংবা পেনসিল স্কেচে তাঁর সমকক্ষ শিল্পী দুর্লভ। ভূনাথের ব্যতিক্রমী জীবন এবং তাঁর বিপুল শিল্পকর্মের প্রতিনিধিত্বকারী নমুনার আলোকচিত্র-সহ এই গ্রন্থ শিল্পী সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতা কিয়দংশে হলেও দূর করবে।
পাতায় পাতায় গল্প – রতনতনু ঘাটী / PATAY PATAYA GALPO
₹60.00ডিং ডং মাঝে মাঝে আজব ভাষায় কথা বলে। তার ভাষায় ‘মাকাটিলি’ মানে ‘লিপইয়ার’। স্কুলে আবৃত্তির পর সে বলল, ‘ইকিতানি’। এর মানে নাকি ‘নমস্কার’। টুপুরের জানলার ওপাশে বাতাবি লেবুর গাছে একটা পাখি এসে বসে। ওকে দেখলেই তার আর পড়ায় মন বসে না। যোগের বেলায় বিয়োগ করে বসে। বাবা একদিন মা-র কথায় দুটো লাঠিতে নিজের ছেঁড়া জামা গলিয়ে বানিয়ে দিলেন পাখিতাডুয়া। তারপর আর পাখিটা আসে না। টুপুরের মনটাই আর ভালো নেই। ঝিমলি আর কাকুর দুই ছেলে-মেয়ে টিটুল আর টিকলি। তাদের পুতুল খেলার রাজ্য ছাদে তার নাম ‘খেলাঘরপুর’। বড়োদের কী নিয়ে যেন কথা বন্ধ, তাই ওদের একসঙ্গে পুতুল খেলাও বারণ। এখন ওরা পুতুলগুলো কি নিজেরা ভাগ করে নেবে? এরকম উনিশটি গল্প নিয়ে এই বই। যারা সবে বই পড়তে শিখেছে বা যারা গড়গড়িয়ে পড়তে পারে, তাদের জন্যে গল্পগুলো লেখা। যারা বই পড়তেই পারে না এখনও, বড়োরা যাদের বই পড়ে শোনান, এই গল্পগুলো তাদের জন্যও।
প্যারিস কাল আজ কাল / PARIS KAAL AAJ KAAL
সম্ভবত পৃথিবীর মানুষকে দু-ভাগে ভাগ করা যায়। এক যারা প্যারিস দেখেছে; দুই যারা প্যরিস দেখেনি। সম্ভবত পৃথিবীর সব কবিকেও দু-ভাগে ভাগ করা যায়। এক যাদের মাতৃভূমি শুধু তাদের নিজেরই দেশ: দুই যাদের মাতৃভূমি তাদের নিজের দেশ ছাড়াও তার একটি শহর_ প্যারিস। ইতিহাসে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকার মতন শহর প্যারিস নয়, উলটে ইতিহাসই এখানে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে। এখানে কেউ নারীর হাত ধরে প্রবিষ্ট হয়ে অবশেষে কবিতা, শিল্প কিংবা দর্শনের হাত মুঠো করে ধরে নিষ্ক্রান্ত হয়। আবার কেউ কবিতা, শিল্প বা দর্শনের হাত পাকড়ে ঢোকে এবং বার হয় নারীর আঁচল আঁকড়ে। প্যারিস নারীর মতন টানে, প্যারিসের নারীরা নিয়তির মতন টানে। আর সেই টানে। আর সেই টানে অভিমন্যুর মতো চক্রব্যূহে প্রবিষ্ট লেখক আর নিষ্ক্রান্ত হতে পারেন না কুহকিনী এ শহরের মায়াজাল থেকে। প্যারিস তাই তাঁর কাছে সতেরোশো উননব্বই-এর লঁসিয়ঁ রেজি্ম, য়ুগো, কিংবা মালার্মের লিতেরাচুর, দেরিদার অবিনির্মাণ, পাস্কালের হৃদয়ের যুক্তি, গোদার-কে বোঝার বৃথা চেষ্টা, ক্রফোর ফ্রিজ শট, পোলানস্কির, জীবনসিনেমা, ব্রিজিং বার্ডোর লাস্য, কামুর ফুটবল, পারফিউমের সুগন্ধ, কনিয়াকের ঘ্রাণ আর রাতের আলো-আধারিতে উদ্দাম স্ট্রিপটিজ্। কাল থেকে শুরু হয়ে আজ ছুঁয়ে প্যারিস প্রবহমান আগামী কালে। চিরযৌবনা এ নগরীর শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মননের মায়াবী রূপকথা প্যারিসপ্রেমিক লেখকের কলমে।
নিদানকাল / NIDANKAL
রাজেশ বসু
উত্তরাধুনিক এক অন্ধকার পৃথিবীর প্রতিনিধি এ-কাহিনির নায়ক। কোমায় আচ্ছন্ন তার মা। নিঃসাড় মৃতবৎ তাঁর বেঁচে থাকা। অবশেষে মৃতবৎ তাঁর বেঁচে থাকা। অবশেষে মৃত্যু। আর তারপরই নায়কের বাড়ি ফেরা। টেলিফোন। ও-প্রান্তে বান্ধবী উজ্জ্বয়িনী যে শুনতে পায় শয়তানের কন্ঠস্বর। বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়া। এবার গন্তব্য সুখলডিহি। এক আদিবাসী গ্রাম। সেখানে অপেক্ষমাণ আর এক পৃথিবী_ তার আদিম ঐশ্বর্য আর আধুনিক লালসা নিয়ে। জনদরদি চিকিৎসক, অসহায় আদিবাসী তরুণী, অত্যাচারী পুলিশ অফিসার, লম্পট ব্যবসায়ী, প্রতিবাদী নারী, রাষ্ট্রদ্রোহী তরুণ_বিচিত্র নানান চরিত্র এক মহাজগতের প্রেক্ষাপটে উপস্থিত সেখানে। কী হয় তারপর?