হিরণ্ময় ভট্টাচার্য
এক বর্ষার রাতে চৌধুরি বাড়ি চুরি করতে গিয়ে গোবরের গর্তে পা হড়কে পড়ে গেল কানাপদ। ব্যর্থমনোরথ কানাই বৃষ্টি থেকে মাথা বাঁচাতে শেতলা মন্দিরের বারান্দায় উঠে আবিষ্কার করল ছিঁচকে চোর পাঁচু দেবতার বরে অদৃশ্য হওয়ার ক্ষমতা লাভ করেছে। নিদারুণ অভিমানে চুরিতে ইস্তফা দিল কানাই। সাম্বাদ্বীপে গিয়েছিল একটা লোক। সেখানে সোনার ঢেঁকি ও নাদা দেখেছিল সে। চিচিঙ্গের মতো লংকা ও সুপুরির মতো সাইজের নারকেল। আরও অনেক অজানা তথ্য জানিয়েছিল লোকটা পটাদাকে। গোপেন দারোগা ঘুমকাতুরে। তাঁর দাবি তাঁর সুশাসনের ফলেই ব্রিজপুকুর এলাকায় চুরি ছ্যাঁচড়ামি একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু হঠাৎ করেই আবার শুরু হল চৌর্যকর্ম। গোপেন দারোগার ঘুমের দফারফা। তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে তাঁরই বাল্যবন্ধু পুলিশে চাকরি না-পাওয়া উপেন। পটাদা নিজেকে গ্লোবট্রটার বলে দাবি করেন গল্পখোর রুবি, রণেন আর কিঙ্কিনীদের কাছে। মাসাইমারা জঙ্গল, তিব্বত, সাহারা মরুভূমি সবই নাকি তাঁর নখের আয়নায়। টাইম মেশিনে চেপে আসা ইডেনের অধিবাসীদেরও চাক্ষুষ করেছেন তিনি। তাঁরই কল্যাণে নাকি প্লুটোনিয়াম বোমার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে পৃথিবী। মালয়েশিয়ার রাবার ফ্যাক্টরির কুলিদের ভূতের উপদ্রব থেকে একবার রক্ষা করেছিলেন পটাদাই। শেষ ট্রেন থেকে নেমে অন্ধকার রাতে বাড়ি ফেরার সময় ভূতের কবলে পড়ল পিলেকান্ত। নিজেকে ‘ড্রাগন’ পরিচয় দিয়েও রক্ষা পেল না। হাতে ছিল সাইকেলের পাম্পার। বুদ্ধি খাটিয়ে সেটাকেই কাজে লাগাল সে। কীভাবে? পাঁচুর লাঙলের ফালে বেধে একদিন উঠে এল সন্দেহজনক একটা পিতলের কলসি। তারপর? এরকমই পঁচিশটি দমফাটা হাসির গল্পে বিচিত্র সব চরিত্রের দেখা মিলবে এই বইয়ে।
প্রেরণা ও বিতর্ক
সম্পাদনা: অশোককুমার রায়
আমাদের জাতীয় জীবনে বন্দে মাতরম্ সংগীতের ভূমিকা স্মরণযোগ্য। বঙ্কিমের মৃত্যুর পর আনন্দমঠ তথা ‘বন্দে মাতরম্’ সংগীতটি বিপ্লবীদের কাছে স্বাধীনতার আন্দোলনের দ্যোতক হয়ে উঠলে শাসক শ্রেণি বন্দেমাতরম সংগীত শুধু নয় ‘বন্দে মাতরম্’ ধ্বনিও দণ্ডনীয় অপরাধ বলে ঘোষণা করেন। তবুও বিশ শতাব্দীর বিশের দশক থেকে বার বার ‘বন্দে মাতরম্’-এর বিরুদ্ধে উঠেছে সাম্প্রদায়িকতার অভি়যোগ। বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও গবেষক এই গ্রন্থে বন্দে মাতরম্ বিতর্ককে গ্রন্থভুক্ত করলেন দীর্ঘদিনের শ্রমসাধ্য গবেষণায়।
কারাগারে কবি কেবল নজরুলের এক বছর এক মাস কালের কারাজীবনের দলিল নয়। বরং কবির কারাজীবনের আগেপিছে হারিয়ে যাওয়া মুহূর্তরা এক মলাটে নথিভুক্ত হয়েছে।
প্রলয় শিখা কাব্যগ্রন্থের জন্যও নজরুলের জেলযাত্রা স্থির হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন গান্ধি-আরউইন চুক্তি-র জন্য কবি জেলজীবন থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন।
সুদীর্ঘ গবেষণার ফসল কারাগারে কবি পাঠে নজরুলপ্রেমী থেকে শুরু করে গবেষকদের নতুন দিশা দেবে।
পাঠককুলকে ভাবাবে নিশ্চিত।