CHILDREN COMICS BOOK
গৌতম বাগচি
যাত্রা বা পালাগানের ইতিহাস আজও আমাদের কাছে অধরা। বাঙালির লোকসাংস্কৃতিক পরিচয়ের এ এক অনন্য অভিজ্ঞান। অথচ, অনুমেয় কিন্তু অবজ্ঞাত ধূসর সেই ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের ঔদাসীন্যও লাগামছাড়া। ক-জন বাঙালি জানেন যে, মহাপ্রভু চৈতন্যদেব পালাগানে অভিনয় করেছিলেন রুক্মিণীর ভূমিকায় ? ক-জন আমরা জানি যে, যুগের দাবি মেনে ধর্ম-পুরাণ-রামায়ণের কাহিনিনির্ভরতা থেকে সরে এসে চরণকবি মুকুন্দদাস একদা যাত্রামঞ্চেই প্রচার করেছিলেন স্বাধীনতার বাণী? আর যখন থেকে ছাপার অক্ষরে কিংবা আলোকচিত্রে ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে সমসময়েক, কী আশ্চর্য, বেমালুম হারিয়ে গেছে বেশিরভাগ কালজয়ী যাত্রামুহূর্ত! অর্থাৎ বাঙালির ঐতিহ্যময় এই লোকসংস্কৃতির যথাযথ ডকুমেন্টেশন কখনও তো নয়ই, আজও হয়নি। ব্যর্থতার এই পাহাড়প্রমাণ অবসাদের মাঝেই একটু সান্ত্বনা মেলে এক আলোকচিত্রীর ক্ষিপ্র লেন্সের দৌলতে। তিনি রবি দাস_ অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে যিনি ফ্রেমবন্দি করে চলেছেন যাত্রাজগতের দুর্লভ এক-একটি মুহূর্ত। ব্যতিক্রমী এই যাত্রাচিত্রীর সঙ্গে আমাদের দেখা হয়ে যাবে এই বইয়ের পাতায়।
হরিপদ দে
উপভোগের উল্লাস আর বাজার অর্থনীতির জয়ধ্বনির দিনে আমরা প্রতিনিয়ত ভুলে যাচ্ছি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের প্রতিস্পর্ধী ক্ষুদিরাম-সূর্য সেন-প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার-ভগৎ সিং-বাঘা যতীন প্রমুখ ক্রান্তিকারীদের। এই বিস্মৃতি ক্ষমার অযোগ্য। ১৮৭৬ থেকে শুরু করে ১৯৪৭_পাঁচটি পর্বে সংঘটিত এই চরমপন্থী বিপ্লবী আন্দোলনের প্রতিটি পর্বে বিপ্লবীদের জীবনকথা ও সংগ্রামের রোমাঞ্চকর ধারাবিবরণী এই গ্রন্থের সম্পদ।
“যে ব্যক্তি এই হীরার মালিক হবে সে তামাম দুনিয়ারও মালিক হবে কিন্তু তামাম দুনিয়ার যাবতীয় দুর্ভাগ্য সেই হতভাগ্যের অধীনে থাকবে !”
পুরঞ্জন চক্রবর্তী
১৩ এপ্রিল ১৯১৯ সালে অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে অহিংস এক সমাবেশের ওপর চলল গুলি। ১৬৫০ রাউন্ড। প্রাণ গেল হাজারেরও বেশি নরনারীর। নারকীয় এই গণহত্যা ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাস সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায়। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের আনুপূর্বিক ইতিহাস এবং তার ফলশ্রুতি এই গ্রন্থে আলোচিত হয়েছে কথোপকথনের মাধ্যমে।
প্রখ্যাত চিকিৎসক তথা কলকাতার প্রাক্তন শেরিফ ডা. দুলালকুমার বসু রচিত এই বইটিতে রবিনহুড কেবল শেরউড বনের রোমান্টিক নায়ক নন, বরং মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। ইতিহাস, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শেরিফপ্রথার বিবর্তনের আলোকে লেখক বিশ্লেষণ করেছেন রবিনহুডের বিদ্রোহী সত্তা।
ব্যক্তিগত স্মৃতি, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও তথ্যনিষ্ঠ অনুসন্ধান মিলিয়ে বইটি পেয়েছে এক স্বতন্ত্র বৌদ্ধিক গভীরতা। প্রাঞ্জল, স্বাদু গদ্যে লেখা বইটি শিশু, কিশোর ও ইতিহাসপ্রেমী পাঠক- সবার কাছেই সমান আকর্ষক!
কবির নিবাসের সঙ্গে তার সৃষ্টিকর্মের সরাসরি কি কোনো সম্পর্ক আছে? প্রশ্নটির বিপ্রতীপে অজান্তেই তৈরি হয় আর একটি প্রশ্ন : কবির কোনো নির্দিষ্ট সৃষ্টিকর্ম কি অনুপ্রাণিত হতে পারে তার সৃজনক্ষেত্রের দ্বারা? ওয়র্ডসওয়র্থের ‘ইমমরটালিটি ওড’ কি আদৌ সম্ভব ছিল তার লেক ডিস্ট্রিক্ট-এর পরিপ্রেক্ষিত ছাড়া? এরকম অনেক প্রশ্নকেই প্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে যদি আমরা কালোত্তীর্ণ কবি-সাহিত্যিকদের জীবন পরিভ্রমণ করি। খুজে বার করতে চেষ্টা করি কোথায় কোথায় তাঁরা ছিলেন কোন সময় তাঁরা ছিলেন, কারা তাঁদের সঙ্গে ছিলেন_এরকম নানা কিঞ্চিৎকর এমনকী অকিঞ্চিৎকর তথ্যও। এভাবেই একদিকে যেমন আবিষ্কৃত হতে থাকে অনেক নতুন দিগন্ত, অন্যদিকে মেধাবী পাঠক ছুঁয়ে যেতে পারেন বিরল কেনো সাহিত্যমুহূর্ত।
গ্রন্থটি মূলত ছাত্র – ছাত্রীদের উদ্দেশ্যএ রূপ পেলেও সুধী পাঠকেরও কৌতূহল চরিতার্থ করবে এ বিশ্বাস রাখি ।