সৈকত রক্ষিতের নির্বাচিত গল্পসংগ্রহ
চিরায়ত কথাসাহিত্য হিসেবে স্বীকৃত যা, তার চৌহদ্দির বাইরেও প্রতিনিয়ত জায়মান এক সাহিত্য। হয়তো নবীন বহতা কথাসাহিত্যের এই ধারাই একদিন নব প্রাণশক্তিতে উজ্জীবিত করবে বাংলা ছোটোগল্পকে। মুহূর্তকথার পর তাই উত্তরকথা। উত্তর এখানে যেমন পরবর্তী, তেমনই অমোঘ প্রকৃতি-মানুষের বহুকৌণিক সম্পর্কের প্রতিফলনে ধরা পড়া আখ্যানের আভাষ-নির্মাণে। ছোটোগল্পই নিঃসংশয়ে সেই ফর্ম যা কিনা ভাঙচুর এইসময়ের টানাপোড়েন আর তার গলনমুহূর্তকে ছুঁয়ে নিতে পারে এক অনন্ত দ্রাঘিমায়। উত্তরকথা-র প্রথম পর্যায়ে আমরা বেছে নিয়েছি সমসময়ের কয়েকজন বিশিষ্ট কথাকারকে। তাঁদের নির্মেদ শক্তিশালী গদ্যেই খুঁজে নেওয়া যাক বাংলা ছোটোগল্পের পরবর্তী অভিমুখ।
রাজেশ বসু
উত্তরাধুনিক এক অন্ধকার পৃথিবীর প্রতিনিধি এ-কাহিনির নায়ক। কোমায় আচ্ছন্ন তার মা। নিঃসাড় মৃতবৎ তাঁর বেঁচে থাকা। অবশেষে মৃতবৎ তাঁর বেঁচে থাকা। অবশেষে মৃত্যু। আর তারপরই নায়কের বাড়ি ফেরা। টেলিফোন। ও-প্রান্তে বান্ধবী উজ্জ্বয়িনী যে শুনতে পায় শয়তানের কন্ঠস্বর। বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়া। এবার গন্তব্য সুখলডিহি। এক আদিবাসী গ্রাম। সেখানে অপেক্ষমাণ আর এক পৃথিবী_ তার আদিম ঐশ্বর্য আর আধুনিক লালসা নিয়ে। জনদরদি চিকিৎসক, অসহায় আদিবাসী তরুণী, অত্যাচারী পুলিশ অফিসার, লম্পট ব্যবসায়ী, প্রতিবাদী নারী, রাষ্ট্রদ্রোহী তরুণ_বিচিত্র নানান চরিত্র এক মহাজগতের প্রেক্ষাপটে উপস্থিত সেখানে। কী হয় তারপর?
প্রাককথন নিধুভূষণ হাজরা
জ্ঞানদানন্দিনী দেবী সম্পাদিত বালক পত্রিকায় ১২৯২ বঙ্গাব্দের (১৮৮৫ সালে) বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ পরপর দুটি সংখ্যায় প্রকাশিত হয় একটি বড়ো গল্প_মুকুট। ত্রিপুরার প্রাচীন ইতিহাসভিত্তিক এই গল্পটির লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কবির বয়স তখন চব্বিশ। লেখার আকর সংগ্রহের অন্য তিনি চিঠি লেখেন ত্রিপুরার মহারাজা বীরচন্দ্র মাণিক্যকে। শুরু হয় এক বন্ধুতা যার তাপর্য বহুমুখী। গল্প হিসেবে ‘মুকুট’ হয়তো বিদগ্ধ পাঠককে মুগ্ধ করেব না, কিন্তু শিশুশিক্ষার উপকরণ হিসেবে এর মূল্য অনেক। কবির নিজের ভাষায় : ‘জীবনচরিত বা ইতিহাস হইতে বেশ ছোটো ছোটো anecdote সংগ্রহ করিয়া দিলে ছেলেদের পড়াইবার বিশেষ সুবিধা হয়।’ রবীন্দ্রনাথের অনুমান অভ্রান্ত ছিল। গল্প হিসেবে মুকুট জনপ্রিয় হয় এবং ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে কবি এর নাট্যরূপ দেন। উদ্দেশ্য ছিল ব্রহ্মচর্যাশ্রমের বালকদের দিয়ে সে-নাটকের অভিনয় করানো। এই গ্রন্থে ‘মুকুট’-এর গল্প ও নাট্য_উভয় রূপই সংকলিত হল আজকের ছেলেমেয়েদের ‘ত্যাগের বীর্যের অধ্যবসায়ের ধর্ম্মনিষ্ঠার সত্যপরায়ণতার’ মন্ত্রে দীক্ষিত করতে।
মানুষের সুখ – দুক্ষ- প্রেম আর চিরন্তন প্রকিতির পাশাপাশি গৌতমের গল্পে বারবার উঠে আসে I
অ্যানিমাল ফার্ম এর এই সপ্রতিভ বঙ্গী করণ একদিকে যেমন অরওয়েলের শাণিত ব্যাঙ্গকে ধারণ করেছে অনায়াসে তেমনই এই স্বাদু রূপান্তর রুশ বিপ্লবের শতবর্ষ -এ বাঙালি পাঠকের কাছে এক অম্ল – মধুর ব্যন্জনা বহন করে আনে.