আলিপুর চিড়িয়াখানাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক অর্ক আর পশুপ্রেমী সাঁঝেলির বন্ধুত্ব যতই গাঢ় হয়, ততই উন্মোচিত হতে থাকে একের পর এক নগ্ন অস্বস্তিকর সত্য। খাঁচার বাইরের রাজনীতির পাশাপাশি এই উপন্যাস তুলে ধরে খাঁচার ভেতরের নির্মম বাস্তবতাকেও।
চোরাশিকারি ইলিয়াসের অন্ধকার জগৎ সেই নির্মমতায় যোগ করে নিষ্ঠুরতার আর এক মাত্রা। বিপ্রতীপে- প্রেম, প্রতিবাদ ও সম্মিলিত প্রতিরোধ।
রূপক সাহার চোরাপথে চিড়িয়াখানা নিছক কোনো উপন্যাস নয়, তা আসলে পশুজগতের সঙ্গে মানবজগতের জটিল সম্পর্কের এক সংবেদী আলেখ্য।
গোপাল ভাঁড় যতটা হাস্যময়, ততটাই রহস্যময়। লোকশ্রুতি তাঁকে নদিয়াধিপতি মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সভাসদ বানালেও তাঁর ‘ঐতিহাসিকতা’ সম্পর্কে সন্দিহান বহু গবেষক। অনেকে আবার এমনও অনুমান করেছেন যে, গোপাল ভাঁড় হয়তো-বা ছদ্মনামের আড়ালে কোনো বাস্তব চরিত্র। গোপালের সময়ের কোনো বইপত্রে গোপাল ভাঁড়ের নাম পাওয়া যায় না।
এই একটি প্রশ্নের সত্যনিষ্ঠ উত্তরই বদলে দিতে পারে স্বাধীনতা-পূর্ব তথা স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতবর্ষের গৃহীত ইতিহাস।
দেশমাতৃকার চরণে উৎসর্গীকৃত নেতাজির অপাপবিদ্ধ চরিত্রকে কালিমালিপ্ত করে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেওয়াই উদ্দেশ্য ছিল এই অশুভ চক্রের সদস্যদের।
কে ছিল না এই চক্রে? দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ আমলা, বিদেশি রাষ্ট্রের কর্ণধার, গুপ্তচর সংস্থা, এমনকী নেতাজির রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়রাও!