আর্ট ও বাংলার রেনেসাঁস / Art O Banglar Renaissance
অন্নদাশঙ্কর রায়
২১টি পরস্পর-সম্বন্ধিত নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধে ‘আর্ট’ ও ৩টি দীর্ঘ প্রবন্ধে ‘বাংলার রেনসাঁস’ নিয়ে আলোচনা করেছেন অন্নদাশঙ্কর রায় তাঁর এই গ্রন্থে। দেওয়া ও পাওয়ার ছল বা উপলক্ষ্য বা মাধ্যমের নামই যে আর্ট, সে-কথা তিনি যেমন নিঃসংকোচে বলেছেন, তেমনই নির্দ্বিধায় ঘোষণা করেছেন, বাংলার রেনেসাঁস এখনও অসমাপ্ত। রবীন্দ্রনাথের অন্তর্ধানে তা নিঃশেষিত হয়নি।
পথে প্রবাসে ও নির্বাচিত প্রবন্ধ / PATHE PRABASE O NIRBACHITA PRABANDHA
অন্নদাশঙ্কর রায়
অন্যান্য ভ্রমণকাহিনির থেকে পথে প্রবাসে-র স্বাতন্ত্র্য এইখানেই যে, অন্নদাশঙ্করের চোখ শুধু অবলোকন করেই থেমে থাকেনি, তা তাঁর মনকে প্ররোচিত করেছে অনুভবী বিশ্লেষণে। প্রাচ্য পাশ্চাত্যের নিরন্তর তুলনা করে তিনি উপনীত হয়েছেন গভীর দার্শনিক উপলব্ধিতে।
যখন অন্নদাশঙ্কর লেখেন, ‘পৃথিবী দিন দিন বদলে যাচ্ছে, মানুষ দিন দিন বদলে যাচ্ছে_কিন্তু উন্নতি? প্রগতি? পারফেকশন? তা কোনোদিন ছিলও না, কোনোদিন হবারও নয়়’, তখন আমরা অনুভব করি ইতিহাস সচতেন তো তিনি বটেই, সেই সঙ্গে পরম প্রজ্ঞাময় এক দ্রষ্টাও।
সন্দেশ – দ্বিতীয় বর্ষ / Sandesh – Dwitia Barsho
ছেলেমেয়েদের জন্য সচিত্র মাসিক পত্র (দ্বিতীয় বর্ষ, বৈশাখ-চৈত্র ১৩২১)
শ্রীউপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদিত
২২ নং সুকিয়া স্ট্রিটের বাড়ি থেকে গোড়ার দিকে ‘সন্দেশ’ প্রকাশিত হত। মুদ্রক ও প্রকাশক ছিলেন ললিতমোহন গুপ্ত। পত্রিকাটি মুদ্রিত হত ৬৪/১ নং সুকিয়া স্ট্রিটে অবস্থিত লক্ষ্মী প্রিন্টিং ওয়ার্কস থেকে। ছড়া, রূপকথা, লোককথা, ইতিহাস, পুরাণ, আবিষ্কারের গল্প কিংবা নিখাদ কল্পকাহিনি_ শিশুসাহিত্যের এমন কোনো শাখার কথাই ভাবা যায় না, যা উপেন্দ্রকিশোরের লেখনীর জাদুস্পর্শে নবপ্রাণে সজ্জীবিত হয়নি। ছোটোদের রামায়ণ থেকে শুরু করে তাঁর লেখা সব গ্রন্থগুলোই বাংলা শিশুসাহিত্যের চিরায়ত সম্পদ। তেমনই তাঁর গুপিগাইন, বাঘা বাইন, বোকা জোলা, ঘ্যাঁঘাসু প্রমুখ চরিত্র তাদের জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে আজ অবধি অবিস্মরণীয়। রেখায়-লেখায় অনবদ্য সন্দেশ উপেন্দ্রকিশোর সম্পাদনা পর্বেই অর্জন করেছিল অবিশ্বাস্য জনপ্রিয়তা। শুধু সমসাময়িক শিশুসাহিত্য প্রকাশনার ক্ষেত্রেই নয়, আন্তর্জাতিক নিরিখেও এই পত্রিকাটি ছিল অগ্রগামী। গল্প. কবিতা, গান, প্রবন্ধ, জীবনী, ভ্রমণকাহিনি, ভুগোল, বিজ্ঞান ও ইতিহাস বিষয়ক লেখা, আবিষ্কারের গল্প, ধাঁধা, সংবাদ_ বিষয়বস্তুর বৈচিত্রময় পরিবেশনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন ধারার অলংকরণ এবং মুদ্রণ পারিপাট্য সন্দেশ-কে এনে দিয়েছিল এমন এক বহুমাত্রিকতা যা এর চিরকালীন আবেদন সৃষ্টির ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম পাদ থেকে ইংরেজি শিক্ষার বিস্তার, সামাজিক সংস্কার আন্দোলন এবং পাশ্চাত্য সাহিত্যের সঙ্গে নবপরিচয় বাংলা শিশুসাহিত্যের ক্ষেত্রে যে বৈপ্লবিক জাগরণের সূচনা করেছিল, সন্দেশ ছিল তারই উত্তুঙ্গ বিন্দু।
ফাগুন বৌ-এর বনে / FAGUN BOU-RE BONE
প্রথম চুম্বনের অপরাধবোধ থেকে উত্তরিত গহীন প্রেম কিংবা বাঘের নরম থাবার মধ্যে লুকোনো প্রখর নখের মতো জান্তব কাম থেক বহুদূরে বর্ষাদিনের কদম ফুলের সুবাসমাখা ভালোবাসার উদযাপন_ফাগুন বৌ-এর বনে বুদ্ধদেব গুহর ছ-টি উপন্যাসের এক ব্যতিক্রমী সংগ্রহ। মহড়া, তটিনী ও আকাতরু, কুর্চিবনে গান, বাসনাকুসুম, চান্দ্রায়ণ ও পাখসাট _শৈলীর অনন্যতায়, জীবনবোধের প্রগাঢ় অনুভবে এবং ইন্দ্রিয়জ প্রেমের পরিপূর্ণ অবগাহনে প্রতিটি উপন্যাসই যুগপৎ উত্তীর্ণ ও অদ্বিতীয়।
নানা নিবন্ধ ও অন্যান্য প্রবন্ধ / NANA NIBANDHA O ANNANYA PRABANDHA
সুশীলকুমার দে সংকলন ও ভূমিকা অলোক রায়
আচার্য সুশীলকুমার দে-র বিখ্যাত গ্রন্থগুলি ইংরেজিতে লেখা হলেও তাঁর বাংলায় লেখা প্রবন্ধ-নিবন্ধাদির সংখ্যাও নিতান্ত অল্প নয়। সংস্কৃত অলংকারশাস্ত্র ও সাহিত্যের অবিসংবাদী এই পাণ্ডিত্যের ইংরেজি ও বাংলা ভাষা সাহিত্যেও অধিকার ছিল সুবিদিত। বাংলা ভাষা-সাহিত্য নিয়ে তাঁর লেখালেখির শুরু ১৯১৫ সালে। সাহিত্যালোচনায় সুশীলকুমারের অবলম্বন শুধুমাত্র আলংকারিকদের অনুশাসন নয়, পাশ্চাত্য সাহিত্যতত্ত্ব অর্জিত বোধও। লেখকের জীবৎকালে প্রকাশিত দুটি গ্রন্থ_দীনবন্ধু মিত্র (১৯৫১ সাল) এবং নানা নিবন্ধ (১৯৫৩ সাল)_বহুদিন যাবৎ মুদ্রিত না-থাকায় রয়ে গিয়েছিল পাঠকের দৃষ্টির অন্তরালে। এই দুটি গ্রন্থের সঙ্গে সুশীলকুমারের আরও কিছু দুষ্প্রাপ্য লেখা একত্র করে প্রকাশিত হল বর্তমান গ্রন্থটি।
মুহূর্তকথা – বুদ্ধদেব গুহ / MUHURTAKATHA – BUDDHADEV GUHA
বুদ্ধদেব গুহর নির্বাচিত গল্পসংগ্রহ
মুহূর্ত যখন বাঙ্ময় হয়ে ওঠে, মুহূর্তকথারা পাড়ি দেয় এক অজানা যাত্রাপথে। দেশকালের সীমা ছাড়িয়ে তারা হয়তো শ্রোতাকে, পাঠককে নিয়ে যায় অন্য এক মহান অঙ্গনে, যেখানে ঋদ্ধ হতে হয় ভিন্ন এক পাঠ-অভিজ্ঞতায়, অভিনব কোনো জীবনবোধে। হয়ে ওঠা অথবা না-হয়ে ওঠা এই মুহূর্তকথারাই চিরায়ত কথাসাহিত্যের প্রাণ, তারাই সাঁতারু প্রজন্মস্মৃতির এই প্রবহমান স্রোতে। ‘মুহূর্তকথা’_এই শিরোনামে পারুল নিবেদন করছে বাংলা ছোটোগল্পের চিরায়ত সৃজনকর্মগুলিকে। মুহূর্তকথা-র এই দ্বিতীয় পর্যায়ে আমাদের নিবেদন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহাশ্বেতা দেবী, বুদ্ধদেব গুহ ও হর্ষ দত্তর নির্বাচিত গল্পসংগ্রহ।
মুহূর্তকথা – বাণী বসু / MUHURTAKATHA – BANI BASU
বাণী বসুর নির্বাচিত গল্পসংগ্রহ
মুহূর্ত যখন বাঙ্ময় হয়ে ওঠে, মুহূর্তকথারা পাড়ি দেয় এক অজানা যাত্রাপথে। দেশকালের সীমা ছাড়িয়ে তারা হয়তো শ্রোতাকে, পাঠককে নিয়ে যায় অন্য এক মহান অঙ্গনে, যেখানে ঋদ্ধ হতে হয় ভিন্ন এক পাঠ-অভিজ্ঞতায়, অভিনব কোনো জীবনবোধে। হয়ে ওঠা অথবা না-হয়ে ওঠা এই মুহূর্তকথারাই চিরায়ত কথাসাহিত্যের প্রাণ, তারাই সাঁতারু প্রজন্মস্মৃতির এই প্রবহমান স্রোতে। ‘মুহূর্তকথা’_এই শিরোনামে পারুল নিবেদন করছে বাংলা ছোটোগল্পের চিরায়ত সৃজনকর্মগুলিকে। আরম্ভেই থাকছে অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও বাণী বসু_এই চার কথাসাহিত্যিকের নির্বাচিত সেই গল্পসংগ্রহ, যা কালোত্তীর্ণ, যার সংরাগে কোনো এক ভিজে স্টেশনের দিকে চকিত সফর আমাদের।
মনীষীদের বক্তৃতা / MONISHIDER BAKTRITA
সম্পাদনা বারিদবরণ ঘোষ
মানুষ তাঁর ভাবভাষাকে লিপিবদ্ধ রূপ দিয়ে স্থায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু সে-ভাষার সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্ত, আবেগময় কথ্য ভাষার দূরত্ব কখনোই ঘোচার নয়। বক্তব্য বা বক্তৃতার বিশেষ মূল্য এ-দৃষ্টিকোণ থেকেই। আবার কখনো সে-বক্তব্যকে পূর্বেই লিখে পরে সভা-সমিতিতে রাখার রীতিও বহুলপ্রচলিত। স্বতোৎসারিত কিংবা প্রস্তুত ভাষণ_উভয় প্রকার বক্তব্যেরই একটা স্থায়ী মূল্য থেকে যদি তাতে ধরা পড়ে মানুষের চিরন্তন ভাবনা-প্রবাহ। উনিশ ও বিশ শতকের বেশ কয়েকজন মনীষীর ভাষণ একত্রিত করে প্রস্তুত এই সংকলনে পাঠক অনুভব করবেন। তদানীন্তন যুগস্পন্দন। পাশাপাশি এইসব ভাষণে মিলবে সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্পকলা, সংস্কৃতি, সমাজসংস্কার, ধর্ম প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষাবহ চিন্তা ও চেতনার অনুরণন। রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বিবেকানন্দের অনায়াসলভ্য ভাষণ যেমন এতে গৃহীত, তেমনই স্থান পেয়েছে বহু আয়াসে উদ্ধার করা অনেক খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বের দুষ্প্রাপ্য ভাষণও।