তিনটি উপন্যাস / TEEN TI UPANYAS
অন্নদাশঙ্কর রায়
অন্নদাশঙ্কর রায়ের তিনটি উপন্যাস আগুন নিয়ে খেলা, পুতুল নিয়ে খেলা এবং কন্যা-র সংকলন এই গ্রন্থ। যেখানে তৃতীয় গ্রন্থের চার পুরুষ চরিত্রের অন্বিষ্ট ‘Eternal Feminine’, প্রথম দুই উপন্যাসের কাসানোভা নায়ক কল্যাণ সোমের অন্বেষণ এমন এক নারীর জন্য যে তার ‘চরিত্রহীন’, ‘ব্যভিচারী’ অতীত সম্পর্কে সম্যকভাবে অবহিত ও অবগত হয়েও তার স্ত্রী হতে রাজি হবে।
বর্ণনাকৌশলের অভিনবত্বে, কৌতূহলোদ্দীপক চরিত্র ও প্লটনির্মাণের দক্ষতায়, আখ্যানের গভীরে অন্তঃসলিলা নদীর মতো দর্শনের প্রবহমানতায় ব্যতিক্রমী এই তিনটি আধুনিক উপন্যাস বাংলা কথাসাহিত্যের চিরন্তন সম্পদ।
বিনুর বই ও নির্বাচিত ছোটোগল্প / Binur Boi O Nirbachita Chhotogalpa
অন্নদাশঙ্কর রায়
এই গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে জীবনশিল্পী অন্নদাশঙ্কর রায়ের আত্মজীবন তথা আত্মশিল্পমূলক রচনা বিনুর বই এবং তাঁর এগারোটি ছোটোগল্প।বিনুর বই আমাদের পরিচিত করিয়ে দেয় অন্নদাশঙ্করের জীবনের বিভিন্ন পর্ব ও বাঁকবদলের সঙ্গে। আমরা জানতে পারি মনস্বী এই লেখকের জীবনদর্শন সম্পর্কেও। গ্রন্থভুক্ত এগারোটি গল্পেই প্রোজ্জ্বল অন্নদাশঙ্করের ব্যতিক্রমী ন্যারেটিভ টেকনিক এবং শ্লেষ-কৌতুকের মোড়কে লুকোনো এক গভীর, আনন্দময় জীবনবোধ।
গণিতবিকাশের ধারা / Ganitbikasher Dhara
অধ্যাপক মনকুমার চক্রবর্তী
এই বইয়ের প্রথম দিকেই আছে গ্রিক গণিতের দুই দিকপাল পিথাগোরাস ও ইউক্লিডের কথা। আছে বিভিন্ন ধরনের সংখ্যার, বিশেষ করে জটিল সংখ্যার কাহিনি। গণিতে ‘শূন্য’-এর ‘কিছু না’ থেকে সংখ্যা হয়ে ওঠার কাহিনি। আছে গণিতে ‘অসীম’-এর ভূমিকা এবং ‘অসীম’ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা। সবশেষে আশা করা যায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে গণিতপ্রেম জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে এই বই গণিত শিক্ষকদের যথেষ্ট সাহায্য করবে।
A Constitutional History of Tripura
Dr. Jagadis Gan-Chaudhuri
This book is a rigorous study of the history of Tripura within the demographic, political and socio-economic contexts of the period studied (642 to 1949).
সমাগত মধুমাস – প্রথম খণ্ড / Samagata Madhumas – 1st Part
অভিজিৎ চৌধুরী
কবি, গীতিকার, সমাজ সংস্কারক তথা নারীশিক্ষা প্রসারের অন্যতম অগ্রদূত মদনমোহন তর্কালঙ্কার ও তাঁর সময়-ঋদ্ধ এই আখ্যান। আখ্যানের কেন্দ্রবিন্দু মদনমোহন আর তাঁকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কক্ষপেথ ভার্যা মুক্তকেশী, কন্যা ভুবনমালা-কুন্দমালা-হেমবালা, মা বিশ্বেশ্বরী দেবী, সুহৃদ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বিটন সাহেব, রাজা রাধাকান্ত দেব, রামগোপাল ঘোষ প্রমুখ ঐতিহাসিক চরিত্রের পরিভ্রমণ। একদিকে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রথম আলো, অন্যদিকে মধ্যযুগীয় সংস্কারে অবরুদ্ধ হিন্দুসমাজ_ ইতিহাসের এই দ্বন্দ্বে দীর্ণ হতে হতে মদনমোহনের সাহিত্যসাধনা ও জীবনসংগ্রাম। লুপ্ত সেই সময়ের আঘ্রাণ আবার পাওয়া যাবে এই উপন্যাসের পাতায়। ঐতিহাসিক চরিত্রগুলির পাশাপাশি আলাদা করে নজর কাড়ে অন্য দুটি চরিত্র : বাচস্পতি খুড়ো ও তারাসুন্দরী। মদ্যপ বেশ্যাসক্ত, পরান্নভোজী, সংস্কৃত কলেজের লিপিকরের কর্ম থেকে বহিষ্কৃত বাচস্পতি খুড়ো অপূর্ব কণ্ঠসম্পদের অধিকারী। সত্তরোর্ধ্ব বাচস্পতির সঙ্গে রূপোপজীবনী তারাসুন্দরীর প্রণয় মধুমাসের আশ্বাসকে বিস্মৃত হতে দেয় না।
স্মৃতির সুচিত্রা / Smritir Suchitra
সম্পাদনা শৈলেন্দ্র হালদার
কৃষ্ণকলি তাঁর গানেই কালো হরিণ চোখ মেলে ত্রস্ত পায়ে বেরিয়ে আসে কুটির থেকে। কবির গান তাঁর উচ্চারণেই পায় প্রাণ, পায় উদ্দিষ্ট অভিমুখ। কিন্তু সুচিত্রা মিত্র শুধুই রবীন্দ্রসংগীতের সবথেকে সার্থক বাণীবাহকদের অন্যতম হয়ে আমাদের স্মৃতি জুড়ে অমলিন থাকবেন না। স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তাঁর লেখা, তাঁর আঁকা ছবির জন্যও। হ্যাঁ, আই পি টি এ এর গানের সেই বলিষ্ঠ কণ্ঠ, কবির সুরের সেই সর্বোত্তম সাধক ছিলেন এক অসামান্য ছড়াকারও। ছবিও আঁকবেন তিনি সময় পেলেই। তেমনই কিছু ছড়া ও ছবি গ্রথিত হল এই সংকলনে। সঙ্গে রইল তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি আর কিছু দুষ্প্রাপ্য আলোকচিত্রের এক দুর্লভ অ্যালবাম।
ভগ্নহৃদয় || Bhagnariday
ভগ্নহৃদয় রবীন্দ্রনাথের প্রথম জীবনের এক ভাববিহ্বল কাব্য। পুস্তকাকারে এর পুনর্মুদ্রণ ঘটানো হয়নি নানা কারণে। অথচ জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবার আর ত্রিপুররাজ মাণিক্য পরিবারে মেলবন্ধনের সানন্দ সংযোগের যোগসূত্র এই কাব্যটি।
এই ইতিহাস ও কাব্যের রসগ্রাহী আলোচনাসহ গ্রন্থটিকে নতুন করে পাঠকের দরবারে উপস্থাপিত করা হল বিচিত্র তথ্যের সমাবেশে। কবি হিসেবে রবীন্দ্রনাথের প্রথম স্বীকৃতি ত্রিপুররাজ পরিবার থেকেই এসেছিল-এই কাব্য সেই স্বীকৃতিরই কাব্যিক দলিল।
পাকিস্তান প্রস্তাব ও ফজলুল হক / Pakistan Prastab O Fajlul Hak
অমলেন্দু দে
দ্বিজাতিতত্ত্ব সম্পর্কে ফজলুল হকের মতামত ঠিক কী ছিল, সে বিষয়ে আমাদের ধারণা আজও স্বচ্ছ নয়। অসাম্প্রদায়িক ও উদারচেতা ফজলুল হক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছিলেন। তাঁকে বিভেদকারী বলে চিহ্নিত করার এক ধরনের অশিক্ষিত প্রবণতা আজও আমাদের মধ্যে কাজ করে। কিন্তু যে কথা শিক্ষিত বাঙালি সহজেই বিস্মৃত হয়, তা হল_ জিন্নার বিভেদপন্থার বিরুদ্ধে প্রথম বলিষ্ঠ প্রতিবাদ ফজলুল হকের কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছিল। তিনিই সর্বপ্রথম ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভিত আলগা করে দেন এবং পূর্ব বাংলার মানুষকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভাবধারায় উদ্দীপিত করেন। তাই আজ যখন ঢাকার শাহবাগ স্কোয়ারে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পুনরুত্থান ঘটছে, দেশভাগ-পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে ফজলুল হকের ভূমিকায় পুনর্মূল্যায়ন আশু প্রয়োজন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য বুঝতে হলে খাঁটি বাঙালি ফজলুল হককে প্রথমে বুঝতে হবে। বর্তমান গ্রন্থে ১৯১৩ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত বাংলার রাজনীতিতে ফজলুল হকের ভূমিকার বিশদ আলোচনা করা হয়েছে।