সুব্রতকুমার মাল
ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের পূর্বে সমগ্র বঙ্গদেশে, বিশেষত মেদিনীপুরে, দেশজ শিক্ষার এক সমৃদ্ধ ধারা প্রবহমান ছিল, তা ভেঙে পড়ল কেন ? ১৮৩৫ সালের অ্যাডামস-এর রিপোর্ট অনুসারে জানা যায়, অতীতে মেদিনীপুর শিক্ষার দিক থেকে সর্বাগ্রে ছিল। তাহলে এখানে ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের আগে কেন কালের করাল গ্রাসে এর অবলুপ্তি ঘটল ? এই গ্রন্থে আছে, প্রাক্ঔপনিবেশিক আমলে মেদিনীপুরে দেশজ শিক্ষার ধারা প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থা, নারীশিক্ষার অগ্রগতি এবং লোকশিক্ষার অবস্থা। সেইসঙ্গে মেদিনীপুরের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলিও বিস্তারিতভাবে আলোচিত।
চিত্রনাট্য ও ছবি সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়
পেশায় চিত্রশিল্পী ও চিত্রনাট্যকার সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায় সুযোগ পেলেই নিজের কথায় ও সুরে বেঁধে ফেলেন গান। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অদ্ভুতুড়ে সিরিজ-এর কাহিনিগুলি সুযোগের চিত্রনাট্য ও ছবিতে পারুল কমিক্স হিসেবে ইতিমধ্যেই জনপ্রিয়। মৌলিক কমিক্সের জন্য পেয়েছেন নারায়ণ দেবনাথ পুরস্কার।
CHILDREN COMICS BOOK
গৌতম বাগচি
যাত্রা বা পালাগানের ইতিহাস আজও আমাদের কাছে অধরা। বাঙালির লোকসাংস্কৃতিক পরিচয়ের এ এক অনন্য অভিজ্ঞান। অথচ, অনুমেয় কিন্তু অবজ্ঞাত ধূসর সেই ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের ঔদাসীন্যও লাগামছাড়া। ক-জন বাঙালি জানেন যে, মহাপ্রভু চৈতন্যদেব পালাগানে অভিনয় করেছিলেন রুক্মিণীর ভূমিকায় ? ক-জন আমরা জানি যে, যুগের দাবি মেনে ধর্ম-পুরাণ-রামায়ণের কাহিনিনির্ভরতা থেকে সরে এসে চরণকবি মুকুন্দদাস একদা যাত্রামঞ্চেই প্রচার করেছিলেন স্বাধীনতার বাণী? আর যখন থেকে ছাপার অক্ষরে কিংবা আলোকচিত্রে ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে সমসময়েক, কী আশ্চর্য, বেমালুম হারিয়ে গেছে বেশিরভাগ কালজয়ী যাত্রামুহূর্ত! অর্থাৎ বাঙালির ঐতিহ্যময় এই লোকসংস্কৃতির যথাযথ ডকুমেন্টেশন কখনও তো নয়ই, আজও হয়নি। ব্যর্থতার এই পাহাড়প্রমাণ অবসাদের মাঝেই একটু সান্ত্বনা মেলে এক আলোকচিত্রীর ক্ষিপ্র লেন্সের দৌলতে। তিনি রবি দাস_ অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে যিনি ফ্রেমবন্দি করে চলেছেন যাত্রাজগতের দুর্লভ এক-একটি মুহূর্ত। ব্যতিক্রমী এই যাত্রাচিত্রীর সঙ্গে আমাদের দেখা হয়ে যাবে এই বইয়ের পাতায়।
হরিপদ দে
উপভোগের উল্লাস আর বাজার অর্থনীতির জয়ধ্বনির দিনে আমরা প্রতিনিয়ত ভুলে যাচ্ছি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের প্রতিস্পর্ধী ক্ষুদিরাম-সূর্য সেন-প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার-ভগৎ সিং-বাঘা যতীন প্রমুখ ক্রান্তিকারীদের। এই বিস্মৃতি ক্ষমার অযোগ্য। ১৮৭৬ থেকে শুরু করে ১৯৪৭_পাঁচটি পর্বে সংঘটিত এই চরমপন্থী বিপ্লবী আন্দোলনের প্রতিটি পর্বে বিপ্লবীদের জীবনকথা ও সংগ্রামের রোমাঞ্চকর ধারাবিবরণী এই গ্রন্থের সম্পদ।
“যে ব্যক্তি এই হীরার মালিক হবে সে তামাম দুনিয়ারও মালিক হবে কিন্তু তামাম দুনিয়ার যাবতীয় দুর্ভাগ্য সেই হতভাগ্যের অধীনে থাকবে !”
পুরঞ্জন চক্রবর্তী
১৩ এপ্রিল ১৯১৯ সালে অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে অহিংস এক সমাবেশের ওপর চলল গুলি। ১৬৫০ রাউন্ড। প্রাণ গেল হাজারেরও বেশি নরনারীর। নারকীয় এই গণহত্যা ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাস সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায়। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের আনুপূর্বিক ইতিহাস এবং তার ফলশ্রুতি এই গ্রন্থে আলোচিত হয়েছে কথোপকথনের মাধ্যমে।